নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত ও আলোচিত প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’-র মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিন্টোল থিয়েটার হলে।

 

গবেষণাগার নাট্যরীতিতে ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। এদিন প্রযোজনাটির ৩৬তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।

 

রবীন্দ্রনাথ ১৮৯২ সালে মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান রূপক ধরে আধুনিক সময়ে মানবের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছায়ারূপে রচনা করেন কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। এর প্রায় চুয়াল্লিশ বছর পরে ১৯৩৬ সালে তার পঁচাত্তর বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’, যেটি দেশে-বিদেশে অসংখ্যদলের মঞ্চায়নের মাধ্যমে সুপরিচিত।

 

অন্যদিকে কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ একটি দুরূহ ও অপ্রচলিত রচনা হিসেবে স্বীকৃত ছিল, এমনকি রবীন্দ্রনাথও কখনোই এটি মঞ্চায়নে উদ্যোগী হননি। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবর্ষে রচনার ১১৯ বছর পরে (২০১১ সালে) রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি-স্মারক প্রযোজনা হিসেবে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে স্বপ্নদলের প্রযোজনায়ই আধুনিক মঞ্চে প্রথম কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’-র নিয়মিত মঞ্চায়ন সূচিত হয়। সেদিক থেকে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি ইতিহাসের অংশরূপেও বিবেচ্য।

 

‘চিত্রাঙ্গদা’-র নাট্যকাহিনিতে উপস্থাপিত হয়: মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবারে যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে- অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে?

 

অতঃপর চিত্রাঙ্গদার আত্মদ্বন্দ্ব আর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এ সত্য উপলব্ধি করা যায় যে, বাইরের অবয়বের চেয়ে নারী-পুরুষের চারিত্রশক্তি অনেক বেশি মূল্যবান এবং এতেই প্রকৃতপক্ষে আত্মার স্থায়ী পরিচয়। পাশাপাশি এতে নারী-পুরুষের সম্মানজনক সহাবস্থান এবং এক্ষেত্রে পুরুষের প্রচলিত-দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি প্রসঙ্গ যেভাবে এসেছে তার তুলনা সমগ্র বিশ্বশিল্প বা সাহিত্যে দুর্লভ!

 

‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন সুকন্যা, মিতা, মোস্তাফিজ, রেজাউল, শিশির, সামাদ, জেবু, রিমু, নাবলু, তানভীর, শাহীন, হিটলার, মাধূরী, মাসুদ, তানিয়া, জুঁই, আলী, সাইদ, বিপুল, জুয়েনা, তীর্থ প্রমুখ।

 

ইআর