‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমাটিকে জয়া বচ্চন ‘ফালতু’ পুরো বচ্চন পরিবারের ওপরই চটেছেন শাহরুখ খান - এমন গুঞ্জনে মুম্বাই সিনেপাড়া সরগরম হলেও কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে তাদের দেখা গেল একসঙ্গেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকে সাড়া দিয়ে একসঙ্গে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন তারা।

শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন - সবাই বক্তব্য রাখেন কলকাতা নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানিয়ে। একই সারিতে পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠানটি উপভোগও করেন তারা। উৎসবের পুরোটা সময় তাদের দেখা গেছে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থাতেই।

অমিতাভ এবং জয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাদের পুত্র অভিষেক বচ্চন এবং পুত্রবধু ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনও।

বাঙালি জয়া উৎসবে বক্তব্য রাখার সময় বলেন এ উৎসব যেন একটা পারিবারিক অনুষ্ঠান।  “আমাদের জন্য এটা আসলে একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‍যদিও  সবাই এখানে নেই, আমাদের পরিবারের এক সদস্য এখন ঘুমাচ্ছে। আশা করছি, সময় হলে আমাদের সঙ্গে সেও এই উৎসবে যোগ দেবে। আর তখনই আমাদের পরিবার পূর্ণতা পাবে।”

সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘মহানগর’-এর মাধ্যমে ১৫ বছর বয়সেই রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে জয়ার।

কলকাতার দর্শকদের উদ্দেশে জয়া বলেন, “আমি কখনোই আর কোনো জায়গার দর্শকদের দেখিনি বাঙালিদের মতো করে উল্লাস করতে। আপনাদের এই উচ্ছ্বাসের কারণেই পৃথিবীর সেরা দর্শক আপনারা। আমাদের সবার উচিৎ আপনাদের উৎসবমুখরতাকে সাধুবাদ জানানো।”

কলকাতার জামাইবাবু অমিতাভ বচ্চনও বাংলায় কথা বলে সবার মন কেড়ে নেন।

তিনি বলেন, “আপনাদের জামাইবাবুর নমস্কার।”

“আমি জয়ার সঙ্গে এখানে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত, যাকে আপনারা আদর করে ‘ধন্যি মেয়ে’ বলে ডাকেন। আপনাদের নাতি (অভিশেক বচ্চন) এবং নাতবৌ (ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন)ও দারুণ খুশি।”

“আমাদের চারজনেরই সৌভাগ্য হয়েছে বাংলার প্রথিতযশা এবং অসাধারণ প্রতিভাধর পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার। সেইসব অভিজ্ঞতা আমরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে মনে রেখেছি এবং বাংলা সিনেমার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অগাধ।”

বচ্চন পরিবারের সবাই প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে আলাদা আলাদা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন অভিনয় করেছেন ‘রেইনকোন’ এবং ‘চোখের বালি’ সিনেমায়। অমিতাভ অভিনয় করেছেন ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’-এ। জয়াকে দেখা গেছে ‘সানগ্লাস’-এ, আর অভিষেক অভিনয় করেছেন ‘অন্তর্মহল’-এ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবার বাংলায় কথা বলে তাক লাগিয়ে দেন শাহরুখ খানও।

তিনি বলেন, “আমি গত বছর আপনাদের কথা দিয়েছিলাম, বাংলায় কথা বলবো। আমি বাংলায় কথা বলতে পেরে খুবই আনন্দিত। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে আমাকে ক্ষমা করবেন।”

জেআই