ছোট্টবেলা থেকেই একটু অন্যরকম। অন্যদের চেয়ে আলাদা। অন্যরা যেটা সাদামাটাভাবে দেখেন, তিনি দেখতেন ভিন্নভাবে। খুব আদর করে বাবা-মা নাম রেখেছিলেন শুভ্র। শুভ্র মানে সাদা। সাদা মনের মানুষ হবেন, বাবা মায়েরও ছিলো এই প্রত্যাশা। বড় হয়ে ক্যামেরার সেলুলুয়েড সাদা ফিতা-ই হয়ে উঠল ছেলেটির স্বপ্ন, বাস্তব ও জীবনকে প্রকাশের মাধ্যম। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন নির্মাণের কারিগর।
ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্র। ক্যামেরার ফ্রেমে ফ্রেমে যিনি তৈরী করেন গল্প। চলতি সময়ের একজন জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নির্মাতা। টেলিভিশন মিডিয়ায় যে ক’জন তরুণ দক্ষতা ও মননশীলতা দিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে শুভ্রের নাম প্রথমদিকে। দেশের দর্শকনন্দিত টিভি চ্যানেল এনটিভির তিনি প্রযোজক। এখানে রয়েছে তার তিনটি দর্শক নন্দিত অনুষ্ঠান: লাইফ স্টাইল শো-স্টাইল এন ট্রেন্ড, গেম শো- হার-জিৎ এবং স্বাতন্ত্র ধারার টিভি শো ‘মিউজিক জ্যাম’।
এর আগে বাংলাদেশে ‘ মিউজিক জ্যাম’ এর মতো অনুষ্ঠান খুব একটা হয়নি। আর্কষণীয় উপস্থাপনা ও সঙ্গীত নিয়ে তরুণ প্রাণের এক্সক্লুসিভ ভাবনাই অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে গেছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।
এনটিভির বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠান মানেই ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্রের নির্দেশনা। পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেনটাইন ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট, বামবা কনসার্ট, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস কনসার্ট, কক্সবাজারে বিচ কনসার্টের মতো বিগ শো এবং ইভেন্টগুলো বরাবরের মতো নির্দেশনা দেন এই তরুণ তুর্কি। তিনি ‘বাংলায় গাইবো বিশ্ব’ শিরোনামে বহুল আলোচিত ইভেন্টের পরিচালক ছিলেন। যে অনুষ্ঠানে সারা বিশ্বের খ্যাতিমান শিল্পীরা পারফর্ম করেছিলো।
ইতোমধ্যে দেশের বাইরে ক্লোজআপ ওয়ানের শিল্পীদের নিয়ে বেশ ক’টি মেগা-শো তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তাঁর দুবাই ও ইউকে কনসার্ট, কনসার্ট ফর জাপান, টেস্ট ক্রিকেট অন টেন ইয়ার্সও সফল ইভেন্ট। সব মিলিয়ে ক্যামেরার অন্তরালে সকলের কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন শুভ্র।
বহুমাত্রিক প্রতিভার নাম ওয়াহিদুল আলম শুভ্র। দেশে বা বিদেশে, স্টুডিওতে বা স্টুডিও’র বাইরে; যেখানেই তিনি কাজ করুন না কেন সবার আগে গুরুত্ব দেন পেশাদারিত্বকে। ভারতীয় কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে, বাপ্পী লাহিড়ী ও তাঁর পরিবার নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান করে হৈ চৈ ফেলে দেন তিনি । এক্সক্লুসিভ অনুষ্ঠান দুটি এনটিভিতে প্রচার হলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্রের নাম।
সম্প্রতি শুভ্র বেশ ক’টি মিউজিক ভিডিও তৈরী করেছেন। তিনি অবশ্য এসবের নাম দিয়েছেন ‘মিউজিক্যাল ফিল্ম’। প্রতিটি মিউজিক্যাল ফিল্মে তিনি ফ্রেম, কালার ও মেকিং এর অভিনবত্ব দেখিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শুভ্র বলেন, “একটি গানের প্রাণ হচ্ছে মিউজিক ভিডিও। মিউজিক ভিডিও’র নান্দনিকতার কারণে অনেক গান দর্শকপ্রিয়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যায়। সুতরাং ভিডিও নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতাকে অবশ্যই কুশলী হওয়া দরকার।”
অনুষ্ঠান তৈরী, ইভেন্ট পরিচালনা এবং ভিডিও নির্মাণ- তিন মাধ্যমেই সমান তালে কাজ করে যেতে চান ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্র।
প্রয়োজনীয় বাজেট পেলে তিনি ভারতের চেয়েও মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান করে দেখিয়ে দিতে চান।
শুভ্রের কাছে প্রশ্ন ছিল, কতদূর যেতে চান ?
তিনি সহাস্যে জানালেন, “নির্মাণের জগতে শক্তভাবে হাঁটতে চাই। অন্যরা যেভাবে তৈরী করছে সেভাবে না, একটু আলাদা থাকতে চাই। ক্যামেরার সেলুলয়েড ফিতায় বন্দী করতে চাই স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে। অন্য কিছু নয়, সারাজীবন শুধু নির্মাতা-ই হতে চাই।”
[b]ঢাকা, জেআই ২৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) [/b]
বিনোদন
নির্মাণের কারিগর
ছোট্টবেলা থেকেই একটু অন্যরকম। অন্যদের চেয়ে আলাদা। অন্যরা যেটা সাদামাটাভাবে দেখেন, তিনি দেখতেন ভিন্নভাবে। খুব আদর করে বাবা-মা নাম রেখেছিলেন শুভ্র। শুভ্র মানে সাদা। সাদা মনের মানুষ হবেন, বাবা মায়েরও ছিলো এই প্রত্যাশা। বড় হয়ে ক্যামেরার সেলুলুয়েড সাদা ফিতা-ই হয়ে উঠল ছেলেটির স্বপ্ন, বাস্তব ও জীবনকে প্রকাশের মাধ্যম।





