বাঁশি বাজে দূরে, ঐ দূর দূর দূরান্তে, জানতাম যদি শুভঙ্করের ফাঁকি, হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়, হৈ হৈ রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, তোর রূপ দেখে চোখ ধাঁধে মন ভরে না, শোন গো রূপসী ইত্যাদি কালজয়ী গানের খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিনি ঢাকার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহে….রাজিউন)।

ডায়াবেটিকস রোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি হার্ট, ব্রেন এবং কিডনীজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। যার কারণে তাকে গত ২০ শে অক্টোবর রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর তাকে বাসায় স্থানান্তর করা হয় কিছুদিন আগে। 

উল্লেখ্য, ষাট, সত্তর  ও আশির দশকে চলচ্চিত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী দাপটের সঙ্গে গান গেয়েছেন।  

এই বরেণ্য শিল্পী বিপিন দাস, সমর দাস, আব্দুল আহাদ, কাদের জামেরী প্রমুখ সংগীত ব্যত্তিত্বের কাছ থেকে সংগীতে দীক্ষা গ্রহন করেন। এরপর ১৯৬০ সাল থেকে তিনি রেডিও ও চলচ্চিত্রে গান গাইতে শুরু করেন। ১৯৬২ সাল থেকে সংগীত ভূবনে তার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

তিনি ২০৬টি চলচ্চিত্রে গান করেছেন। তার গাওয়া গানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। বাংলা গানের পাশাপাশি উর্দু গানও করেছেন তিনি। তাকে তাঁর সময়ের সবচেয়ে ফ্যাশনেবল ও সুদর্শন সঙ্গীতশিল্পী বলা হত।

বাংলাদেশের আধুনিক গানের অন্যতম শিল্পী, সংগীত পরিচালক এবং সুরকার এ মানুষটির জন্ম ১৯৪৪ সালের ২রা  ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলায়। ১৯৭৩ সালের ২৮শে মার্চ সুরাইয়া সিদ্দিকীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের তিন মেয়ে। এ্যানী সিদ্দিকী, রেনি সিদ্দিকী এবং গিনি সিদ্দিকী। তারা সবাই সংগীতের সঙ্গে জড়িত।

সংগীত জীবনে জাতীয় পুরষ্কার ছাড়াও অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। এসবের মধ্যে রয়েছে দীনেশ পদক, বন্ধন লাইফটাইম এ্যাচিভমেন্ট, শিল্পকলা একাডেমি থেকে  সংগীত ও নাট্যকলা পুরষ্কার প্রভৃতি।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

জেআই