বছরের স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এই অনন্য প্রাপ্তি উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দেয় বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের ভিআইপি সেমিনার কক্ষে এ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গানের সুরে, ফুলেল ভালোবাসায় ও বক্তাদের নিবেদিত কথায় শুভেচ্ছা জানানো হয় নন্দিত এই শিল্পীকে। সেই সূত্রে অনাড়ম্বর আয়োজনটিও হয়ে ওঠে আনন্দময় ও প্রাণবন্ত।

বন্যা মিলনায়তনে প্রবেশের মুহূর্তেই সবার হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মোমবাতি। সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয়—আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে...। সুরের রেশ ধরেই মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন শিল্পী। এরপর শিল্পীর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে অনেকগুলো কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে ওঠে—‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী/আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি...।

সংবর্ধনা প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে বন্যা বলেন, ‘আমার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় হচ্ছে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তি। এটি হয়ে থাকবে আমার জীবনের প্রেরণার উৎস। এই অর্জনের কারণে আমার দায়িত্ব যেন আরও বেড়ে গেল। সুরের আশ্রয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই আমৃত্যু। আর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তি উপলক্ষে এই সংবর্ধনা প্রদান একই সঙ্গে আমাকে মুগ্ধ ও অভিভূত করেছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজেদ আকবর। বন্যাকে নিবেদিত সম্মাননাপত্র পাঠ করে সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ। একই সঙ্গে তিনি বন্যার হাতে তুলে দেন সম্মাননা স্মারক। শিল্পীর হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন সংস্থার সহসভাপতি বুলা মাহমুদ ও যুগ্ম সম্পাদক সালমা আকবর। বন্যাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, সংগীতশিল্পী অনুপ ভট্টাচার্য, সাদী মহম্মদ, সংস্থার উপদেষ্টা আমিনা আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্যাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা নিবেদন করে বৈতালিক, গীতাঞ্জলি, সুরের ধারা, রবিরাগ, রবিরশ্মি, বিশ্ববীণা, সংগীত ভবন, গীতসুধা, উত্তরায়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এআইজে