কোথায় আছেন পপি? কী করছেন? তাঁর সময় কাটছে কীভাবে? এমন অনেক প্রশ্নই চিত্রনায়িকা পপির ভক্তদের মনে আসে। শুধু তা-ই নয়, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট অনেকের মনেও একই প্রশ্ন।

এমন ভাবার কারণও আছে। দীর্ঘদিন পর্দায় অনুপস্থিত আছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। গত কয়েক বছর যে দু-একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে, সেগুলোর শুটিং হয়েছে অনেক আগে। নতুন কোনো ছবিতে পপিকে দেখা যায়নি অনেক দিন। সম্প্রতি শোনা যায়, ‘সোনাবন্ধু’ নামে একটি ছবিতে তিনি অভিনয় করবেন। তখন চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের কিছু অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গেছে।

পপি বললেন, ‘আমি আমার মতো আছি। ভালো আছি। ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব তো পাচ্ছি। কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলছে না।’

১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পপির। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর অভিনয় নৈপুণ্য সবার চোখে পড়ে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর পপি ব্যস্ত নায়িকা হয়ে যান। শাবনূর ও মৌসুমীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। কিন্তু গত প্রায় বছর সাতেক বড় পর্দায় তিনি একেবারেই অনিয়মিত। এই সময় তিনি ছোট পর্দায় ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করেন।

চলচ্চিত্রে পপি যাঁর হাত ধরে এসেছেন, সেই মনতাজুর রহমান আকবর আজ রোববার সকালে বলেন, চলচ্চিত্র পপিকে সবার কাছে পরিচিত করেছে। কিন্তু এই চলচ্চিত্রের মানুষের সঙ্গেই পপি যোগাযোগ রক্ষা করেন না। তাঁকে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না।

মাঝেমধ্যে যখন পপিকে নতুন ছবির প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তাঁর অস্বাভাবিক পারিশ্রমিক দাবির কারণে পরিচালক ও প্রযোজকেরা তাঁকে নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে আর আগ্রহী হন না। এই বিষয়টা পপিকে বুঝতে হবে। তিনি আরও বলেন, পপি যে মানের অভিনয়শিল্পী, এই চলচ্চিত্রশিল্পকে তাঁর আরও অনেক কিছুই দেওয়ার ছিল। কিন্তু তাতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

দীর্ঘদিন বড় পর্দা ও ছোট পর্দায় অনিয়মিত এই অভিনয়শিল্পী সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করেন। বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রটি টেলিভিশন প্রচারণাও তাঁর মতে আশাব্যঞ্জক না। তা নিয়ে পপির মন খারাপ। পপি বলেন, ‘বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজটি করেছিলাম। ভেবেছিলাম প্রচার ভালো হবে। কিন্তু তা হলো না।’

‘কারাগার’ (২০০৩) ছবিতে অভিনয় করে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান পপি। এরপর তিনি নারগিস আকতারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ (২০০৮) আর সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’ (২০০৯) ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

এমই