অনেক সময়ই গুঞ্জন শোন যায় সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের সংসারে ভাঙন ধরেছে। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে।

কিন্তু সানিয়া-মালিক জুটি সমালোচক কিংবা গুজব সৃষ্টিকারীদের মিথ্যে প্রমাণ করছেন বার বার। যেমনটি এবারও করলেন।

ঈদের আগেই উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের নারী দ্বৈতের শিরোপা জিতেছেন সানিয়া মির্জা। যা ভারতের টেনিসের ইতিহাসে প্রথম কোনো তারকার অর্জন। ইংল্যান্ড থেকে ১৪ জুলাই দেশে ফিরে সংবর্ধনা পান তিনি।

দেশে ফেরার তৃতীয় দিনই শ্রীলঙ্কার বিমান ধরেন সানিয়া। স্বামী শোয়েব মালিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলছেন। তার সঙ্গে ঈদ করতে শুক্রবার রাতে শ্রীলঙ্কার বিমান ধরেন।

শনিবার সেখানেই স্বামীর সঙ্গে ঈদ করেন। রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। শোয়েব মালিক ব্যাট হাতে ২৯ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এর আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের বিশেষ করে শোয়েব মালিকের ব্যাটিং দেখতে ভিআইপি গ্যালারিতে হাজির হন সানিয়া মির্জা। টেলিভিশনের পর্দায় বেশ কয়েকবার দেখানো হয় ভারতের এই টেনিস তারকাকে।

শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে এক সাক্ষাতকারে সানিয়া বলেছিলেন, ‘শোয়েবের সঙ্গে ঈদ করাটা হবে বিশেষ কিছু। ব্যস্ত সূচির কারণে এমন সুযোগ আমি অবশ্য খুব বেশি পাইনা। ভাগ্যক্রমে টেনিসের বাইরে কিছু সময় পাচ্ছি। তাই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাচ্ছি। বর্তমানে আমার যে ক্যারিয়ার সেটা নিয়ে আমি খুশি।’

ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সঙ্গে পাকিস্তানি ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিকের বিয়ে নিয়ে বেশ জল্পনাকল্পনা চলছিল। বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল। কিন্তু বর-কনের বোধহয় তর সইছিল না। অনেকটা আকস্মিকভাবে এর তিন দিন আগেই অর্থাৎ ১২ এপ্রিল বিয়ে হয়ে যায় সানিয়া-শোয়েবের।

ভারতীয় মুদ্রায় ৬১ লাখ রুপি দেনমোহরে সানিয়া মির্জার নতুন পরিচয় দাঁড়ায় সানিয়া মালিক। অনেকে আবার সংক্ষেপে ডাকেন ‘মিসেস মালিক’। ভারতীয় টেনিস সেনসেশন সানিয়া বনে যান পাকিস্তানিদের ‘সানিয়া ভাবি’।

প্রায় ১০০ অতিথির উপস্থিতিতে হায়দরাবাদের তাজ কৃষ্ণ হোটেলে হয় শোয়েব-সানিয়ার বিয়ে। বর-কনে দুজনই মুসলমান। তাই মুসলিম রীতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দুই তারকার বিয়ের অনেকটা জুড়েই ছিল হায়দরাবাদী বিয়ের ঐতিহ্য। বর-কনের জন্য বানানো হয় দুটি পৃথক মঞ্চ। সেই মঞ্চেই একে অন্যের সঙ্গে মালাবদল করেন শোয়েব-সানিয়া।

বিয়ের পর শোয়েব মালিককে নিয়ে সানিয়া মির্জা বলেছিলেন, ‘শোয়েবের সরলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাস্তব জীবনে আমি আমার স্বপ্নের রাজপুত্রকে পেয়ে গেছি। আমি এমন একজন বড় মাপের মানুষকে বিয়ে করেছি যে একই সঙ্গে একজন বড় ক্রিকেটার। এই বিয়ে দুই দেশকে আরো ঘনিষ্ঠ করেছে।’