নিজের এবং রুবেলের কাহিনী নিজ মুখে শোনালেন হ্যাপি। রোববার রাতে রেডিও ঢাকা এফএমে এসে 'অন্ধকারের গল্পে' তিনি বলেছেন, রুবেলকে আর বিয়ে করতে চান না। বরং প্রতারণার কারণে যেন তার কঠোর শাস্তি হয়, সেটাই চান তিনি।

ঢাকা এফএমে হ্যাপি নিজের প্রেম কাহিনি যেভাবে তুলে ধরেছেন-

এক বছর ধরে ওর সাথে পরিচয়। শুরুটা হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। ও যে খেলোয়াড় এটা আমি জানতাম না। ওর বাড়ি বাগেরহাটে, আমার বাড়িও বাগেরহাটে। প্রথমে ও আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। একটা সময় আমরা ফোন নম্বর চায় রুবেল। এর আগে শুরু থেকেই ফেসবুকে কথা হয়েছে। ওর ফোন পেয়ে প্রথমে খারাপ লাগতো ও বিরক্ত হতাম। তারপর থেকে আস্তে আস্তে সম্পর্ক হয়েছে।

মার্চের ৮ তারিখে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করি। ও খুব পাগলামি করতো। প্রায়ই ওর সাথে ঘুরতে বের হতাম। ওর সব পাগলামি দেখে আমি বুঝতাম ও আমাকে সত্যি ভালোবাসে। এখন মনে হয় সবকিছু অভিনয় ছিল ওর।

ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন ওর সাথে দেখা হতো। ওর সাথে সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত জমা হয়ে আছে। ওইগুলো ভুলতে পারছি না।

ওর সব কথাই আমি শুনতাম। যখন যাই বলেতো তাই করতাম। বন্ধুদের সাথে দেখা করতে দিতো না আমাকে। একা একা মার্কেটে যেতে দিতো না। ওকে মনে হয়েছে ও শুধুই আমার, আর কারো নয়। রুবেল প্রতিদিন নেশা করতো। অতিরিক্ত নেশা করতো। আমি তাকে নিষেধ করতাম।

হ্যাপি বলেন, যখন আমি জানলাম ওর ফ্যামিলি ওকে বিয়ে করাতে চাইছে। তখন আমি ওকে বলেছি, তুমি আমাদের সম্পর্কের কথা বাবা-মাকে জানাও। কিন্তু সে জানায়নি। উল্টো আমাকে খারাপ মেয়ে বলে গালি দিয়েছে। মিডিয়ায় কাজ করলে নাকি আমরা খারাপ হয়ে যাই।

তারপরও আমি মনে করতাম, যেহেতু ভালোবেসে ফেলেছি এখন তো ফিরতে পারবো না। ওর কথায় ফিল্ম ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু ওর মধ্যে কোন পরিবর্তন দেখিনি।

মামলার সিদ্ধান্ত

ও বলে, আমাকে বিয়ে করা সম্ভাব নয়। অথচ তার সাথে তার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতাম। ১ তারিখে হঠাৎ করেই বলেছে, তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ব্রেকআপ। তখন বলে, তুমি আমাকে ফোন দিয়ো না। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না।

মামলা করার আগের দিন সে বলেছে, আমাকে বিয়ে করতে পারবে না। এরপর মামলা করতে চেয়েছি। থানায় যাই। তখন থানা থেকে বিসিবিতে ফোন করে। তখন কিছু খেলোয়াড় বিষয়টা মীমাংসা করতে থানায় আসে। ওই সময় রুবেল বলে, আমি তোমাকে বিয়ে করবো। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নেই মামলা করবো না।

কিন্তু তাতেও কোন কিছু বদলায় না। আবারও রুবেল বলে, বাবা-মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। বিশ্বকাপের পরেই ও বিয়ে করবে। এসময় ওকে বলি, আমাদের কথাগুলো রেকর্ড করা আছে। হঠাৎ সে পাল্টে যায়। অনেক ভালো ব্যাবহার করতে থাকে। মামলা করার আগেরদিন অনেক ভুলিয়ে-ভালিয়ে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়, মোবাইলের অনেক কিছু ডিলিট করে দেয়। সে বলে, তুমি মামলা করবে? কর, কিছুই করতে পারবে না। মামলা করে কিছুই হবে না। আমি তোমার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা করবো।

এখন ওর কথা শুনলেই ঘৃণা হয়। ওকে আমি ঘৃণা করি। এখন সত্যি, রুবেল নামের এ মানুষের প্রতি ঘৃণা হয়। যে আমাকে নিয়ে খেললো। রুবেলের মতো জানোয়ারকে আমি আর কখনও বিয়ে করবো না।

জেএ