১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে '১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ'।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে ১ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাসব্যাপী চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ সব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত মোট ৩০টি দেশ তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে ৫৫ জন শিল্পী ও শিল্প সমালোচক এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন।

এ ছাড়াও প্রথমবারের মতো এবারের প্রদর্শনীতে পারফরমেন্স আর্ট প্রদর্শিত হবে। এতে ১০ জন শিল্পী আংশগ্রহণ করবেন। এ প্রদর্শনীতে ‘কনটেম্পরারি নিউ মিডিয়া আর্ট এন্ড প্রেক্টটিসেস’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সেমিনারের বিষয়বস্তুর কি-নোট পেপার উপস্থাপন করবেন শিল্পসমালোচক জিয়াউল করিম এবং এর ওপর আলোচনা করবেন শিল্পী মোস্তফা জামান মিঠু, শিল্পী হাসান আশিক ও শিল্পসমালোচক মাহমুদুল হোসেন।

এছাড়া প্রতিদিন জাতীয় নাট্যশাল মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

এ প্রদর্শনী উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিল্পকর্ম বাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের ৫১৮ জন শিল্পী তাদের শিল্পকর্ম জমা দেন। এ সব শিল্পকর্ম থেকে নির্বাচন কমিটি যাচাই বাছাই করে ২০৯ জন শিল্পীর ২২৮টি শিল্পকর্ম নির্বাচন করেন, যা এখানে প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশর শিল্পীদের শিল্পকর্ম নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি শিল্পকর্ম নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন—শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শিল্পী মনিরুল ইসলাম, শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, শিল্পী মনসুর উল করিম ও শিল্পী ড. ফরিদা জামান।

প্রদর্শনীটি ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রসঙ্গত, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ অনন্য প্রদর্শনী ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে।

যে দেশগুলো অংশগ্রহন করবে তারা হলো—আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, পূর্ব তিমুর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, জাপান, কুয়েত, কাজাকিস্তান, লেবানন, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ সব দেশের ১০৪ শিল্পীর ২০৪ শিল্পকর্ম প্রদশনীতে স্থান পাবে।

ইআর/জেআই