আমার কাজ বন্ধ, রেকডিং বন্ধ্, আমার হাজবেন্ড থাকে ময়মনসিং। আমি একা পড়ে আছি ঢাকাতে। একের পর এক আমার শো ক্যান্সেল হয়ে যাচ্ছে। শো'র ঠিক আগ মুহূর্তে আমাকে বলা হচ্ছে-ন্যান্সি তোমার শোটা হচ্ছে না।

কেন হচ্ছে না-তোমার শো'র টিকিট বিক্রি হয় না। আমাকে বলেন এটা বিশ্বসযোগ্য কথা, আপনার কি মনে হয় আমার গান এখন কেউ শুনতে চায় না। সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমি আজকে ক্যামেরার সামনে কথা দিচ্ছি আমি আজকে থেকে আর গান গাইবো না।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ন্যান্সি কান্না জড়ানো ভারী গলায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা টিভি সেটের সামনে আছেন এটা আমার মুখের ওয়াদা। যদি আপনাদের মুখ থেকে বের হয় যে, আমরা ন্যান্সির গান শুনতে চাই না। সত্যি আমি আর কোনো দিন গান গাইবো না, নিজের জন্যও গান গাইবো না।

একটা শিল্পীর গান গাইতে না পারা, এটা তার জন্য কত কষ্ট। একটা সন্তানহারা মা বা মা হারা সন্তানের যতো কষ্ট একটা শিল্পীর গান গাইতে না পারা তত কষ্ট।

এসব কষ্ট নিয়ে দীর্ঘ দিন তিনি অনিদ্রা রোগে ভূগছিলেন জানিয়ে ন্যান্সি বলেন, ডাক্তার আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ঘুমের ট্যবলেট খাওয়ার। ডাক্তার বলেছেন-যদি আপনার ঘুম এরকম লাগাতার না হতে থাকে তাহলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। সে ক্ষেত্র আপনি একটি করে ঘুমের ট্যাবলেট খেতে পারেন।

ন্যান্সি বলেন, আমার সমস্যা হচ্ছে সিজার হওয়ার কারণে কম পাওয়ারের কোনো ট্যাবলেটে কাজ করে না। আমি এক সাথে বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছি কারণ আমার ঘুম দরকার। এই ৮/১০ টি ট্যাবলেট যে আমাকে এই অবস্থায় নিয়ে আসবে সত্যি এটা আমার মাথায় আসেনি।

তিনি বলেন, একটা কথা উঠেছে ন্যান্সির মেয়ে নায়লাকে ওর দাদা দাদি নিয়ে চলে গেছে এই কারণে ও আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। নরমাল একটা কথা- আমার বাচ্চাটার বয়স ৬ মাস। আমি যদি এখন অসুস্থ হই তাহলে বাচ্চাটাকে আমি কার কাছে রাখতে দেব।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন-এ প্রশঙ্গে পাশে বসা তার স্বামীকে দেখিয়ে বলেন, এখনও আমার পাশে কে বসা আছে তা নিজের চোখে দেখলেন।

ঢাকা, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ