রানা প্লাজা চলচ্চিত্র নিয়ে আপিল বিভাগের রায় পর্যালোচনার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, কেটে গেছে এ সিনেমার মুক্তির শেষ বাধাও

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনাহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়। 

এর আগে ‘রানা প্লাজা’র মুক্তির জন্য দুই দফায় তারিখ ঠিক করে প্রচার চালানো হলেও আদালতের নির্দেশনায় তা আটকে যায়। 

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক শামীমা আক্তারের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “এই চলচ্চিত্রের মুক্তিতে এখন আর কোনো বাধা থাকল না।” 

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ভেঙে পড়লে শিল্পক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় নিহত হন এক হাজার ১৩৫ জন, আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক, যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

ধসের ১৭ দিনের মাথায় ১০ মে বিকালে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে রেশমা আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ওই বছরই রানা প্লাজা ধস ও রেশমাকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন পরিচালক নজরুল ইসলাম খান।

এতে পোশাকশ্রমিক ‘রেশমা' চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী পরী মনি। তার বিপরীতে ‘টিটু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা সায়মন সাদিক।

বিভিন্ন দৃশ্যের কারণে এ চলচ্চিত্রের ছাড়পত্র দীর্ঘদিন আটকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ‘রানা প্লাজা’ চলচ্চিত্রকে সনদপত্র দেয়। সে অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ৫০টির বেশি হলে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রযোজক সংস্থা। 

কিন্তু বাংলাদেশ ন্যাশনাল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের করা একটি রিট আবেদনে ‘রানা প্লাজা’র মুক্তি আটকে যায়। তার অভিযোগ ছিল, এই সিনেমায় ‘ভীতিকর চিত্র’ দেখানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ‘আইনের লঙ্ঘন’।

ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে হাই কোর্ট গত ২৪ অগাস্ট এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ও সম্প্রচারে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। সেই সঙ্গে সেন্সর বোর্ডের দেওয়া সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করে রুল দেওয়া হয়।

প্রযোজক শামীমা আক্তার ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ গত ৬ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়।

এতে ‘রানা প্লাজা’র মুক্তির পথ খোলে; ১১ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে নতুন করে প্রচারও শুরু হয়। 

কিন্তু মুক্তির ঠিক আগের দিন রিট আবেদনকারী পক্ষ আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে চেম্বার আদালতে যায়। তাদের বক্তব্য শুনে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী চলচ্চিত্রটির ওপর ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

এর ধারাবাহিকতায় ওই রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে ওঠে এবং বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দেয় আদালত।

রিভিউ শুনানিতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন ও মেহেদী হাসান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর প্রযোজকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এ এম আমিন উদ্দিন ও বি এম ইলিয়াস কচি।

জেআই