পয়লা অগ্রহায়ণ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও রাজধানীসহ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় নবান্ন উৎসব।
এ উপলক্ষে জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় দিনব্যাপী নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে। এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ফসলের ঘ্রাণ নগরে থাকে না, কৃষক-কৃষাণীর বৈচিত্র্যপূর্ণ অবাধ বিচরণও।
যে কারণে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালির প্রাণের উৎসব নবান্নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয় উৎসব-প্রিয় নগরের মানুষেরা।
চারুকলার বকুল তলায় গতকাল শনিবার সকালে ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন লোকজন বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর মুড়ি-মুড়কির গন্ধ কিছুক্ষণের জন্য হলেও নগরবাসীকে গ্রামীণ আবহ দিতে সহায়তা করে। মনে করিয়ে দেয় বাঙালির শেকড় সন্ধানী ঐতিহ্যের কথা।
জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ আয়োজিত এ লোকজ অনুষ্ঠানের শুরু হয় মুরতজা কবীর বশীরের বাঁশি সহযোগে তবলা বাদনের মধ্যদিয়ে। এর পর আয়োজক পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র ‘আমার সব কথা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। কবিতা পাঠ শেষ হতেই লায়লা হাসানের নির্দেশনায় ‘আয় রে আয়রে ছুটে-সোনালি ধানের’ গান সহযোগে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ‘নটরাজ’। রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীরা রজনীকান্তের ‘চরণনিম্নে উৎসবময়ী’ গানটি পরিবেশন করেন।
এর পর একের পর এক লোকজ গান ও গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনায় প্রাণবন্ত করে তোলে চারুকলার বকুলতলা প্রাঙ্গণ। যান্ত্রিক নগরের মানুষের কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফিরে যায় গ্রামীণ আবহে তথা গ্রামীণ পরিবেশে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাবনা, গীতিমায়া, উদীচী, নন্দন কলাকেন্দ্র, বহ্নিশিখা, স্পন্দনসহ দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা’র নৃত্য শিল্পীরা চাকমা নৃত্য পরিবেশন করে। এছাড়া একক পরিবেশনায় নজরুলের গান পরিবেশন করেন আবুবকর সিদ্দিক, রবীন্দ্রনাথের গান করেন স্বপ্নীল সজীব ও সীমান্ত সজল।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভাষা সংগ্রামী ও রবীন্দ্র গবেষক আহমদ রফিক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আহমদ রফিক নবান্ন উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে ‘আমাদের অগ্রহায়ণ ফিরিয়ে দাও’ স্লোগানে আন্দোলন বেগবান করবার জন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান, আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম প্রমুখ।
পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও এক সময়ের প্রধান উৎসব বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে তো দূরের কথা সাড়ম্বরে নবান্ন উৎসব আয়োজন কষ্টসাধ্য।’ এ সময় তিনি দেশের সব সংস্কৃতিপ্রাণ মানুষকে এক অগ্রহায়ণের নবান্নোৎসবের মহামিলনমেলায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। চারুকলার বকুল তলায় এ অনুষ্ঠানটি রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।
এমএ





