ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমাল! এ তো নিখাদ ম্যাজিক। কিন্তু এ বার আর কোনো ম্যাজিক নয়। ডাহা বাস্তব। ছিলেন প্রোডিউসার, হয়ে গেলেন ডিরেক্টর! কে তিনি এমন পদ পরিবর্তন করলেন? তিনি সত্রাজিৎ সেন। নামটা একটু-একটু চেনা ঠেকছে তো? হ্যাঁ, ইনিই ‘বাকিটা ব্যক্তিগত', ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস'-এর মতো ছবির প্রোডিউসার। তবে এ বার থেকে তিনি ডিরেক্টরও বটে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে এই বছরের শেষেই সত্রাজিতের মাথায় উঠতে চলেছে ‘ডিরেক্টরস হ্যাট'।
'আসলে বছর খানেক আগে এল উড ছবিটা দেখার পর থেকেই কেমন যেন ছবি তৈরি করার পোকাটা মাথায় চারা দিয়ে উঠেছিল। মীরকে সে কথা বলেও ছিলাম। কিন্তু কিছুতেই আমরা সময় বের করে বসতে পারছিলাম না। শেষমেশ একদিন আমরা বসলাম আর ছবি করার প্ল্যানটা করে ফেললাম', বললেন পরিচালক কাম প্রযোজক সত্রাজিৎ।
আর সত্রাজিতের এই ছবিরই 'হিরো' মীর। যাবতীয় ঘটনা ছবিতে ঘটবে মীরকে কেন্দ্র করেই। তা বলে ভাববেন না মীর অন্য হিরোদের মতো ঢিসুম-ঢিসুম ঘুঁষি পাকাবে আর নায়িকার কোমর ধরে টেমস নদীর ধারে গিয়ে নাচনকোঁদন করবে! তবে? মীর এই ছবিতে প্রোটাগনিস্ট। পাড়ার ফাংশনে টুকটাক অ্যাঙ্করিং করে। আর ভেতরে ভেতরে ছবি বানানোর স্বপ্ন-টপ্ন দেখে। কিন্তু স্বপ্ন আর কিছুতেই বাস্তবের মুখ দেখে না। একদিন অবশ্য সেই সুযোগ আসে। খবরের কাগজের এক বিজ্ঞাপনে মীরের চোখ আটকে যায়! ‘বি গ্রেড' ছবি বানানোর জন্য ডিরেক্টর চাই! মীর তো সেই প্রোডিউসারের সঙ্গে দেখা-টেখা করে ভুজুং-ভাজুং দিয়ে তাকে নিজের ‘স্বপ্নের ছবি' বানাবার জন্য রাজি করিয়ে ফেলে! সেই ছবির জন্য একের পর এক হিরোইনদের সঙ্গে মিট-ও করে মীর।
এই হিরোইনরা কিন্তু একেবারে আসলি হিরোইন। এঁরা কারা? স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র আর সুদীপ্তা চক্রবর্তী। আর নায়ক? স্বয়ং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়! কিন্তু এই ছবি চলে না। ইনফ্যাক্ট মীর যে ছবি বানায় সেটাই ডাহা ফ্লপ হয়!
তা হলে? এতটুকু পড়ে বেশ একটা দুঃখু-দুঃখু ভাব আসছে তো? কিন্তু ছবিটা একেবারেই সে রকম নয়। বরং কমেডির মোড়কেই পুরো ব্যাপারটা দেখানো হয়েছে, বলছেন পরিচালক। তবে এ রকম এক চরিত্র পেয়ে দারুণ খুশি মীর। নায়ক বললেন, 'এই প্রথম আমাকে কেউ লিড রোলের জন্য ভাবল। আর এমন একটা রোলের জন্য ভাবল যার সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই। আমি তাই খুব এক্সাইটেড'।
তবে মীর যতই এক্সাইটেড হন না কেন, পরিচালক কিন্তু মাথা ঠান্ডাই রেখেছেন। উনি প্রযোজক মানুষ, ছবির ব্যবসাটা বোঝেন, কিন্তু ছবি বানাবার কারিগরিটা? সেটায় কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না সত্রাজিৎ। ‘অ্যাকশন' বলার আগে সোজা উড়ে যাচ্ছেন নিউ ইয়র্কের লি স্টারসবার্গ ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে বিল হপকিংস-এর কাছে হাতেকলমে শিখে নেবেন ছবি বানাবার খুঁটিনাটি। ফিরে এসে তবেই নিজের ছবিতে হাত দেবেন সত্রাজিৎ।
ছবির নাম এখনও ঠিক হয়নি। নিজের প্রযোজনা সংস্থা ট্রাইপড এন্টারটেনমেন্ট-ই এই ছবির সিংহভাগ প্রোডিউস করবে। আর পুরো প্রোডাকশনের তত্ত্বাবধানে মানে ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার হয়ে পাশে থাকবেন সত্রাজিতের বন্ধু কাম টলিউডের হেভিওয়েট ডিরেক্টর সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সূত্র : আনন্দ বাজার
ঢাকা, ২৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





