শ্বাসরুদ্ধকর মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড থেকে হাইকোর্টের অব্যাহতি লাভের একদিন পরই আজ (শনিবার) থেকে পুনরায় বাজরাঙ্গী ভাইজান ছবির শুটিংয় শুরু করতে যাচ্ছেন দাবাং খান খ্যাত সালমান খান।
বলিউড সিনেমার টপে থাকা হার্ড হিটার অভিনেতা সালমান কাশ্মিরে এই ছবির শুটিং করবেন, খবর এনডিটিভি অনলাইন।
গতকাল শুক্রবার বিচারক যখন বলেন ৪৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা ৩০ হাজার রুপি বন্ডের বিনিময়ে জামিন আবেদন করতে পারবেন তখন সালমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এই অ্যাকশন হিরোকে তার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে বাইরে ভ্রমনে যেতে হবে বলেও আদালত নির্দেশ দেয়।
আদালতের এই আদেশের পর শুক্রবার বিকেলেই সালমান খান বোম্বের সেশন’স কোর্টে তার জামিনের সব নিয়মকানুন সম্পন্ন করেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে যখন বাসায় ফিরেন তখন সালমানকে বেশ উৎফুল্ল দেখায়। তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকোনিতে বের হন, ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন এবং তাদের প্রতি স্যালুট জানান।
পরে এক টুইট বার্তায় সালমান বলেন, যারা আমার জন্য দোয়া করেছেন এবং আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ “মেহেরবানী, শুকরিয়া”।

আজ থেকে ১৩ বছর আগে এক রাতে মাতাল হয়ে গাড়ি চালিয়ে এক ছিন্নমূল ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে সালমানকে শাস্তি দেয় আদালত। সেশন’স কোর্ট হত্যার দায়ে এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই অভিনেতাকে।
এদিকে, বোম্বের হাইকোর্টে শুনানিকালে সালমানের আইনজীবীরা তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য যুক্তি প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী জুন মাসে তারিখ ধার্য করা হয়।
তবে, যখন দোষী সাব্যস্ত করা হয় তখন বিচারক ডি ডব্লিউ দেশপান্ডে গাড়ি তার ড্রাইভার চালিয়েছিল বলে সালমান যে দাবি জানায় তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বিচারক বলেন, দুর্ঘটনার পর জনাব খান তা পুলিশকে অবহিত না করে বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। আদেশে বিচারক আরও বলেন, এটা আমলে নেয়া জরুরী যে আহতদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া এবং তাদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার মতো কোন ইতিবাচক পদক্ষেপই অভিযুক্তের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়নি।
মুম্বাইয়ে সালমান খানের বাসার সামনে
বিচার চলাকালে সালমানের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেন যে সালমান মদ নয়, পানি পান করেছিলেন এবং তিনি দুর্ঘটনার পর ড্রাইভিং সিটে বসেছিলেন কারণ তিনি যে পাশে ছিলেন তা দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যায়।
কিন্তু দুর্ঘটনায় আহতসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীর দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে একটি বেকারীর কাছে রাস্তার পাশে ঘুমন্ত মানুষের ওপর যখন সালমান গাড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলেন তখন তিনি গাড়ি চালিয়েছিলেন এবং তার গাড়ির গতি ছিল ঘন্টায় ৫৫ মাইল।
এদিকে, নিম্ন আদালতে যে সরকারি উকিল গাড়ি চাপা দেওয়ার মামলাটি লড়েছিলেন, সেই প্রাদীপ ঘারাত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আদালত বলেছে, ৫ বছরের কারাদন্ড হয়েছে, তাই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে সালমান খানের। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব জুন মাসে শুনবেন বিচারক। তারপরে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হবে।“
এই আদেশের পরে একদিকে যেমন বলিউডের তারকারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন, তেমনই সালমান খানের ফ্যানেরা আনন্দ উৎসব করছেন, বাজি পোড়াচ্ছেন, মিষ্টি বিতরণ করছেন।
যদিও যে কোনও অভিযুক্তেরই জামিনের অধিকার রয়েছে, তবে প্রাক্তন বিচারক বা আইনজীবীরা এই প্রশ্নও তুলছেন যেখানে কয়েক লক্ষ জামিনের আবেদন পড়ে রয়েছে বিভিন্ন আদালতে, সেখানে সালমান খানের আবেদনের শুনানি দুদিনের মধ্যে শুরু করে আদালত কি সঠিক বিচার করল, নাকি তিনি তারকা বলেই বেশী সুবিধা পেলেন!
এদিকে, বুধবারের রায়ের পর এই টপ স্টারের বাসায় এসে তার প্রতি সমর্থন জানান বলিউডের অপরাপর সুপারস্টাররা। এদের মধ্যে রয়েছেন আমির খান, অজয় দেবগান, কারান জোহর, শাহরুখ খান, সোনাক্ষী সিনহা এবং কারিনা কাপুর।
কেবি





