“মানবতার কল্যাণে থিয়েটার”এ শ্লোগান মনে করিয়ে দেয় বিশ্ব নাট্য দিবসের কথা। আজ ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস। নাটক মানুষকে গঠনশীল করে তোলে এবং গভীর অনুভূতিকে জাগ্রত করে। সুষ্ঠু সংস্কৃতির চর্চা বদলে দিতে পারে গোটা সমাজ ও জাতিকে। আমাদের দেশে নাট্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের সুখ, দু:খ ও বেদেনার চিত্রসহ সামাজিক ও পারিবারিক রূপরেখা ফুটিয়ে তোলা হয়।
২০১৩ বিশ্ব নাট্য দিবসে বিশ্বখ্যাত ইটালিয়ান নাট্য ব্যক্তিত্ব দারিও ফো’র লেখা বাণী’র একটি অংশ- 'বর্তমান সংকটের কালে, যখন আমাদের এবং বিশেষভাবে সেইসব তরুণদের যারা থিয়েটারের শিল্পরূপ আত্মস্থ করতে আগ্রহী, যখন সকলকে বিতাড়িত করবার বিশাল আয়োজন চলছে, এর বিপরীতে সংকট মোকাবেলায় ভরসার একমাত্র জায়গা হচ্ছে কমেদিয়ান্তির বিতাড়িতদের, নতুন নাট্য নির্মাতাদের, এমন এক সংহতির উত্থান যা আপন সামর্থ্যের নব-রূপান্তরের মাধ্যমে নিঃসন্দেহে বয়ে আনবে অভাবিত সব অর্জন।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নাটক অনেকটাই প্রসারতা লাভ করেছে এ কথা সত্যি। কিন্তু পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেনি এ দেশের নাট্যধারা।
চর্যাপদ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের নাটক নিয়ে কাজ করে চলেছেন এ দেশের লোকশিল্পীরা। দেশের গ্রামগঞ্জে এখনও ঐতিহ্যবাহী ধারায় নাটকের মঞ্চায়ন হয়।
নাটক যতটা এগিয়েছে, ততটাই শিকার হয়েছে অবহেলার। প্রশাসনিক জটিলতায় যাত্রাশিল্প এখন বিলুপ্তপ্রায়। মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
১৯৬২ সালে হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ২৭ মার্চ 'বিশ্ব নাট্য দিবস' পালিত হয়।
দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের সব দেশের নাট্যকর্মীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন, সম্প্র্রীতি, উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে নাটকের উন্নয়ন সাধন করা।
বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান ইন্টারন্যাশন্যাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) স্থানীয় কেন্দ্রগুলো প্রধানত এই দিবস পালনে কর্মসূচি গ্রহণ করে।
আমাদের ঢাকার এই আইটিআই কেন্দ্রের উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশে 'বিশ্ব নাট্য দিবস' পালন শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে আইটিআই ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের যৌথ উদ্যোগে 'বিশ্ব নাট্য দিবস' পালনের ব্যপক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তৎকালীন প্রেক্ষাপটে পাঁচ-ছয়শ' নাট্যকর্মী রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়ে ঢাকার ৫টি স্থানে পথনাটক, একই সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ এবং র্যালিতে অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের পরিহিত পোশাক থাকত নাট্যকেন্দ্রিক। এ ধরনের র্যালী আনন্দ উৎসবের সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করত।
১৯৮৯ থেকে এই দিবসটি পালনের বিষয়টিতে পুনরায় উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হয় সম্পৃক্ত নাট্যদল। ১৯৯১ সাল থেকে আবার জমে উঠতে শুরু করে বিশ্ব নাট্য দিবসের আয়োজন।
রাজধানী ঢাকায় নাট্যকর্মীদের সমাবেশ, আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে 'বিশ্ব নাট্য দিবস'। এভাবেই প্রতি বছর এ দেশে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি।
এমকে/কেএইচ





