‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমার চেয়ে বড় অভিনেতা, আমার জাতীয় পুরস্কার ওনারই প্রাপ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের দক্ষিণী ছবি ও বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা প্রকাশ রাজ।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে গত মাসে নিহত হওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যার পর এভাবেই প্রধানমন্ত্রী মোদির নীরবতার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় এ অভিনেতা। প্রকাশ রাজ সাংবাদিক গৌরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
৫৫ বছর বয়সী গৌরী কর্নাটক রাজ্যের বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন এবং লঙ্কেশ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ধর্মভিত্তিক কট্টরবাদ ও উগ্রবাদের তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি।
ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন ডানপন্থী সরকারের মতাদর্শের কঠোর সমালোচনাকারী ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ। গত মাসের শুরুতে বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি।
লঙ্কেশ মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ লঙ্কেশের বাড়ির ক্যামেরায় হেলমেট পরিহিত তাঁর হত্যাকারীর ছবি দেখা গেছে।
এছাড়া গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডের পর বিজেপি নামধারী কয়েকজন টুইটার ব্যবহারকারী প্রকাশ্যেই তাঁর বামপন্থী আদর্শ নিয়ে সমালোচনা করে ও তাঁর হত্যায় উল্লাস প্রদর্শন করে। অবাক করা বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই এমন কয়েকটি টুইটার অ্যাকাউন্ট ফলো করেন।
প্রকাশ রাজ বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি, যারা লঙ্কেশ হত্যায় বাহবা দিয়েছে তাদের অনেককে মোদি নিজেই টুইটারে ফলো করেন। কাজেই এটা আমাকে পীড়া দিয়েছে। সঙ্গে এও প্রমাণ করেছে যে দেশ কোনদিকে যাচ্ছে।’
প্রকাশ আরো মন্তব্য করেন, গৌরী লঙ্কেশের হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং প্রতিবাদকারীদের প্রতি পুলিশের খড়গহস্ত স্পষ্টতই ভিন্নমত পোষণকারীদের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণুতার পরিচায়ক।
ভারতের সংবাদ সস্থা এএনআইকে প্রকাশ রাজ জানান, মাসখানেক আগে খ্যাতিমান এই সাংবাদিকের মৃত্যুর পরও এ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার প্রকাশ সংবাদমাধ্যমের কাছে জানালেন, তিনি তাঁর পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার ফেরত দিতে চান। প্রকাশ বলেন, মোদিসহ বড় অভিনেতারা এই সম্মানের যোগ্য হকদার।
প্রকাশ রাজ কান্নাড়া ছবি দিয়েই তাঁর চলচ্চিত্রাভিনয় শুরু করেছিলেন। পরে তামিল ও মালয়ালাম ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে খ্যাতির শিখরে পৌঁছান। যশস্বী এই অভিনেতা বলিউডের বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।
এএস





