পরীমণির শুরুটা মডেলিং দিয়ে। বর্তমানে কাজ করছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। সম্প্রতি বিনোদন পাতার মুখোমুখি হয়ে জানালেন নিজের গল্প।                      
প্রথমেই জানতে চাওয়া, নতুন কাজ করছেন, কেমন লাগছে? জবাবে পরী বললেন, গুড ফিলিংস, ভালো লাগছে।
ফিল্মে আসার কারণ কি? বললেন, ফিল্ম ভালো লাগে ফিল্মকে লাভ করি সেজন্যই ফিল্মে আসা।
যশোরে জন্ম পরীর, যশোরেই বেড়ে ওঠা। বর্তমানে মিরপুর বাংলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ফিল্মে নিজের জন্য একটা জায়গা করে নিতে চান তিনি। অনেক বড় জায়গায় যেতে চান।
পরী বলেন, ফিল্ম নিয়েই আমার সকল স্বপ্ন। আমি চাই ফিল্মেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। আমি না থাকলেও লোকে যেন আমাকে চিনে জানে সেজন্যই ফিল্মে আসা।
প্রথম কাজ, প্রথম অভিনয়ের গল্প- ফাস্ট মডেলিং করি রঙের একটা ফটোশটে। এখানে আমি মডেল হয়েছিলাম চিত্রনায়ক ফেরদৌস ভাইয়ের সাথে। আমার সৌভাগ্য যে প্রথম কাজটাই ফেরদৌস ভাইয়ের সাথে করা। এরপর ফাস্ট নাটক করি সেকেন্ড ইনিংস। এখানে ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা আপাসহ ফিল্মের আর্টিস্টরা ছিলেন। সে কারণেই ফিল্মের প্রতি আমার আগ্রহটা একটু বেশি। সুযোগও পেয়ে গেছি।
রানা প্লাজা ছবিতে আমিই রেশমা চরিত্রে অভিনয় করছি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই একটা বাস্তব চরিত্রে অভিনয় করছি। এটা আমার সৌভাগ্য। তবে চরিত্রটি নিয়ে আমি প্রথমেই নার্ভাস ছিলাম। পরে কয়েকটা গার্মেন্টসে আমি ঘুরেছি, মেয়েদের চলাফেরা খাওয়া-দাওয়া সবই দেখে এসেছি।
এবার সিনেমার গল্প ছেড়ে পরীমণি চলে গেলেন নিজের গল্পে। ছোটবেলাতেই মা বাবাকে হারিয়ে ফেলা পরীমণি বড় হয়েছেন নানু-দাদুদের আদর যত্নে। আত্মীয় স্বজনদের ভালোবাসার কথাভেবে পরী অনেকটাই উৎফুল্ল। কিন্তু মা-বাবার প্রসঙ্গ আসতেই কেমন যেন টলমল হয়ে গেলেন পরী। ইটস ওকে বলে সামলেও নিলেন নিজেকে। বললেন, ফ্যামিলির সহায়তা ছাড়া আমি ফিল্মে আসতে পারতাম না। আমি পরী আপনাদের মাঝে জন্ম নিতে পারতাম না। তারা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে। মানসিক সাপোর্ট থেকে সব ধরনের সাপোর্ট তারা করেছে। তারা মন প্রাণ দিয়ে চান আমি যেন একটা ভাল কাজ করি, ভাল একটা জায়গায় যাই। ফিল্মে খুব ভালো একটা অবস্থানে থাকি। আমি যেন তাদের এই চাওয়াগুলো পূর্ণ করতে পারি।
শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলি খুবই মিস করেন পরী। বললেন, যশোরের বন্ধু বান্ধবদের খুব মিস করি। বন্ধুদের ভেতরে আমি ছিলাম দুষ্ট নাম্বার ওয়ান।
স্কুল লাইফটা খুব মজার পার করেছি। খুব দুষ্ট হলেও ফাস্ট গার্ল হওয়ায় ছাড় পেয়ে যেতাম টিচারদের হাত থেকে। আর আমরা ফ্রেন্ডরা অনেক ক্লোজ ছিলাম। এখনো সবার সাথে কথা হয়, ফ্রেন্ডরা সবাই অ্যাপ্রোশিয়েট করে।
স্কুলে পড়তে পড়তে প্রেমে পড়া হয়েছিলো কি না? প্রশ্ন শুনেই লাজুক হাসলেন পরীমণি, বললেন, স্কুলে ফ্রেন্ডরা অনেক ক্লোজ ছিলাম, কিন্তু প্রেম করা হয় নাই কারো সাথে। বলতে বলতে পরীমনি আবারো ডুবে গেলেন পুরনো স্মৃতির সোনালি দিনে।
বলা শুরু করলেন, আমরা এগারজনের একটা টিম ছিলাম। এরমধ্যে নয়জনই মেয়ে। খুব স্ট্রং একটা টিম। একসাথে ঘুরেছি, খেয়েছি থেকেছি। দেখা গেছে একসাথে না গেলে পছন্দের ড্রেসটাও কেনা হতো না। এগারজনের গ্রুপে মেয়ে ছিলাম নয়জন। আর আমরা চিকন চাকন ছিলাম পাঁচজন। পাঁচজনের ড্রেস বেশিরভাগ সময়ই একরকম থাকতো। কথাগুলো যখন বলছিলেন তখন মুখে আনন্দের হাসি আর চোখে ছিলো সেইসব রঙিন দিনের আনন্দের ঝিলিক।এখন সবাইকে মিস করি কিন্তু কথা হয় রীতিমত।
স্কুল লাইফ বেশ ভালোভাবে কাটালেও কলেজ লাইফ তেমন এনজয় করতে পারেন নি তিনি। কারণ এর ভেতরেই জড়িয়ে গেছেন চলচ্চিত্রে।
স্কুলেও প্রেমে পড়েন নি, কলেজেও না, প্রেমে পড়বেন কবে?
হাসতে হাসতে বললেন, এখন অবশ্য মাথার ভেতর প্রেম ঘুরাঘুরি করছে। যেকোনো মুহূর্তে প্রেমে পড়ে যাবো। প্রেমে পড়লে সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবো।
প্রেম করার জন্য কোন ধরনের ছেলে খোঁজছেন? মিষ্টি হেসে বললেন, অবশ্যই কপালের উপর চুল থাকতে হবে। এলোমেলো, কবি কবি ভাব পাগলাটে টাইপের ছেলে আমার পছন্দ। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির আউলা ঝাউলা টাইপের ছেলে। এরকম ছেলেই আমি চাই। বলেই বেশ কিছুক্ষণ হেসে নিলেন পরীমনি।
[b]ঢাকা, ২৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]