সিনেমার শুটিং চলাকালে সংলাপ দেওয়ার সময় আকস্মিক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর দেহে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত পৌনে ৮টার মধ্যে উত্তরার হৈচৈ বাড়িতে হঠাৎ জ্ঞান হারান রিয়াজ।
এরপর তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উত্তরার ওই বাড়িটিতে তিনি ‘কৃষ্ণপক্ষ’ছবির শুটিং করছিলেন। অচেতন হয়ে পড়লে শুটিং বন্ধ করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে রিয়াজের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তার অভিনীত ‘কৃষ্ণপক্ষ’আগামী ১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে মুক্তি পাওয়ার কথা।
চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা হয়েছেন রিয়াজ। ব্যক্তিজীবনে এক কন্যাসন্তানের বাবা রিয়াজ। তার স্ত্রী মাশফিকা খান তিনা ছিলেন বিনোদন বিচিত্রার ফটো সুন্দরী বিজয়ী।
ছবির পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন রিয়াজের অসুস্থতার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
‘কৃষ্ণপক্ষ’ছবির ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সংলাপ দেওয়ার সময় হঠাৎ করেই রিয়াজের সারা শরীর ঘামতে থাকে। একপর্যায়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। দ্রুত তাঁকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদ্রোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত বসুন্ধরা এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি কার্ডিওলজি বিভাগের পরামর্শক শাহাবুদ্দীন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।
রিয়াজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে রাতে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে শাওন বলেন, ‘রিয়াজ ভাইকে এখন রিং পরানো হচ্ছে। সবাই রিয়াজ ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের হৃৎপিন্ডে চারটি ব্লক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুতর। এ কারণে একটিতে রিং পরানো হয়েছে। তিনি এখন আছেন সিসিইউতে।
এর আগে, সোমবার সকালে বাগেরহাটে পূজা উৎসবে অংশ নিয়েছেন রিয়াজ। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি ঢাকায় ফেরেন সন্ধ্যায়। এরপর যোগ দেন ‘কৃষ্ণপক্ষ’র দৃশ্যধারণে। সব ভালোই চলছিলো। হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন রিয়াজ।
দেশের তিন নন্দিত অভিনেত্রী সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা সম্পর্কে রিয়াজের চাচাতো বোন। ববিতার হাত ধরে তারই উৎসাহে ১৯৯৫ সালে ‘বাংলার নায়ক’ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর অনেক ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় ছবিতে তাকে দেখা গেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- প্রাণের চেয়ে প্রিয়, হৃদয়ের আয়না (১৯৯৭), ভালবাসি তোমাকে, পৃথিবী তোমার আমার, বুক ভরা ভালোবাসা, কাজের মেয়ে (১৯৯৮), বিয়ের ফুল, স্বপ্নের পুরুষ (১৯৯৯), এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে, সাবধান, ভয়ঙ্কর বিষু (২০০০), হৃদয়ের বন্ধন, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ, মিলন হবে কতোদিনে, প্রেমের তাজমহল (২০০১), নিঃশ্বাসে তুমি বিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায় (২০০২), মাটির ফুল, ভালবাসা কারে কয়, মনের মাঝে তুমি, স্বপ্নের বাসর, জামাই শ্বশুর (২০০৩), রং নাম্বার, ছোট্ট একটু ভালবাসা, টক ঝাল মিষ্টি (২০০৪), মোল্লাবাড়ির বউ (২০০৫), হৃদয়ের কথা, না বলো না, বকুল ফুলের মালা (২০০৬), আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, তোমাকেই খুঁজছি, মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা, চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), এবাদত, চাঁদের মতো বউ, মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বাজাও বিয়ের বাজনা (২০১০), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১), লোভে পাপে পাপে মৃত্যু (২০১৪) ইত্যাদি।
জনপ্রিয় কিছু গল্প-উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন রিয়াজ। এগুলো হলো দুই দুয়ারী (২০০০), সুন্দরী বধূ (২০০২), মেঘের পরে মেঘ, শ্যামল ছায়া, শাস্তি (২০০৪), হাজার বছর ধরে (২০০৫), খেলাঘর, বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), দারুচিনি দ্বীপ, একজন সঙ্গে ছিল (২০০৭) এবং মধুমতি (২০১১)।
চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতা হয়েছেন রিয়াজ। ছবিগুলো হলো- দুই দুয়ারী (২০০০), দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭) এবং কি যাদু করিলা (২০০৮)।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজকও হয়েছেন রিয়াজ। অভিনয় করেছেন নাটকেও। চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে গত কয়েক বছর টিভি নাটকে মনোযোগী হন রিয়াজ। এ ছাড়া চ্যানেল আইয়ের ‘হ্যান্ডসাম দি আলটিমেট ম্যান’প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় মৌসুমে প্রধান বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন। উপস্থাপনাও করেছেন।
সম্প্রতি ‘সুইটহার্ট’ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর চলচ্চিত্রে ফেরেন রিয়াজ। এরপর হাতে নিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে ‘কৃষ্ণপক্ষ’।
কেবি





