প্রখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
১৯৮২ সালে তিনি ‘নীল নকশার সন্ধানে’ নাটকে অভিনয় করেন। এটি ছিল তার প্রথম টেলিভিশন নাটক।
প্রতি বছর ঠিক যখন সবাই ফাল্গুনের উৎসবে মেতে ওঠে, তখন ফরিদীর ভক্তদের মনে একটা শূন্যতা নাড়া দেয়।
‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে উকিল, বাকের ভাইয়ের ভাষায় নাম্বার ওয়ান ‘ধুনকর’, মানে যিনি তুলোধুনো করেন প্রতিপক্ষের উকিলকে; সেই উকিল ইয়াকুব আলী সরকার।
বাকের ভাই এর মামলাটা তিনি হেরে গেলেন বদি’র মিথ্যা সাক্ষীর কারণে। কোর্ট থেকে বদির বেরিয়ে যাবার সময় রাগে গজগজ করে তিনি যখন বদিকে বলেন, ‘বদি, ইচ্ছে করলে এই মামলা আমি ধূলোয় উড়িয়ে দিতে পারতাম, শুধু তোমার কারণে পারি নি… ইউ … ইউ..!’
‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’ নাটকে কাজীর চরিত্র। শমি কায়সার কাজী অফিসে অপেক্ষা করছেন জাহিদ হাসানের জন্য। সেই কাজি অফিসের কাজি তিনি। কিছুক্ষণ পরপর এসে ইচ্ছে করেই শমিকে বিরক্ত করছেন। একবার জিজ্ঞেস করেন, ‘চা খাবেন..?’ আরেকবার জিজ্ঞেস করেন, ‘পত্রিকা এনে দিই..?’
জাত অভিনেতা ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী, রক্তে মিশে ছিলো অভিনয়, নাট্য জগতের সবাই বুঝে ফেলেছিল ধূমকেতুর জন্ম হয়েছে, একদিন শাসন করবে এই যুবক।
সেদিনের হিসেব এক চিলতেও ভুল হয়নি, এরপর টানা তিন দশক তার ক্যারিশম্যাটিক, তার ম্যাজিকাল অভিনয়ে বুঁদ করে রেখেছিলেন পুরো বাঙালি অভিনয় প্রিয় জাতিকে।
২০১২ সালের পর থেকে এ দেশের মিডিয়া জগতে একটি স্থায়ী আফসোস তৈরি হয়েছে। এই আফসোসের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায় প্রায়ই। পরিচালক- হোক সেটা সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম অথবা মঞ্চের- সবারই এক আফসোস- এমন শক্তিমান অভিনেতা ছাড়া মনের মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলা মুশকিল।দেশের বিনোদন জগতের শক্তিমান একজন অভিনেতা ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী।
নিজের চরিত্রকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। দর্শকরাও হারিয়ে যেতেন সেই অভিনয়ের মায়া জালে। সেই মনের মতো চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার মানুষটি আর নেই! সবার দীর্ঘশ্বাস
এএস





