সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে একটি টিভি শো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের এক মুসলিম গায়িকা।

২২ বছর বয়সী গায়িকা ম্যানেল ইবতিসেম ফ্রান্সের নতুন প্রতিভা খোঁজার একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এক পোস্টে তিনি ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে জনসমাগমে লরি নিয়ে যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে তাতে ‘সন্দেহ প্রকাশ’ করেন। তিউনিশিয়ার এক মুসলিম যুবক ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক ‘বাস্তিল দিবসে’ হওয়া নিসের ওই লরি হামলায় ৮৬ জন নিহত হন। এই হামলার প্রসঙ্গ এনে ম্যানেল ইবতিসেম লেখেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি হামলা যেন রুটিন হয়ে গেছে!’

‘এবং সন্ত্রাসীরা সবসময়ই তাদের পরিচয়ের কাগজপত্র সঙ্গে রাখে। এটা তো সত্য যে, যখন আপনি কোনো খারাপ কাজের পরিকল্পনা করবেন, তখন আপনি আপনার কাগজপত্র নিতে ভুলবেন না’, যোগ করেন ফরাসি গায়িকা।

নিসের লরি হামলার সপ্তাহখানেক পর ফ্রান্সের সেন্ট-আদ্যুনে-দ্য-র‍্যুভের একটি গির্জায় একজন বয়স্ক যাজককে হত্যার ঘটনা ঘটে। তখন তিনি মন্তব্য করেন, ‘আসল সন্ত্রাসী হলো আমাদের সরকার।’

মুসলিম ওই গায়িকার এসব মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচিত হয়। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্বজনদের একটি সংগঠন তাঁর মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে। এতে হামলায় নিহতদের প্রতি ‘অশ্রদ্ধা’ পোষণ করা হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

ফ্রান্সের ‘দি ভয়েস’ নামে যে প্রতিযোগিতায় গান গেয়ে ম্যানেল ইবতিসেম পরিচিতি লাভ করেন সেসব ভিডিও মুছে ফেলার চাপও দেন অনেকে।

এসব ঘটনার জের ধরে শুক্রবার ম্যানেল ইবতিসেম তাঁর টিভি শোর অনুষ্ঠানটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস অবশ্যই নিন্দনীয়’।

‘আমি কাউকে আঘাত করার জন্য এই মন্তব্য করিনি। আমি আমার দেশ ফ্রান্সকে ভালোবাসি। আমি সব ধরনের কূপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে আমার শান্তির বার্তা প্রচার করে যাব।’

ম্যানেল ইবতিসেমের ভিডিওটি পাঁচ লাখ বার দেখা হয়েছে এবং শত শত মানুষ তাঁকে সমর্থনও জানিয়েছেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, মুসলিম বলেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এএস