সিনেমা জগতে কাস্টিং কাউচ বিতর্ক নতুন কিছু না। কিন্তু সেটিকে উসকে দিলেন বলিউডের সাহসী অভিনেত্রী সুরভিন চাওলা। নানা বিতর্ক শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সুরভিন চাওয়া-রাধিকা আপ্তে অভিনীত অজয় দেবগনের পাচর্ড ছবি মুক্তি পাবে। ছবিটির ট্রেলর ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ছবি মুক্তির আগেই বোমা ফাটালেন সুরভিন চাওলা। তিনি সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলেন, একটি দক্ষিণী বিগ বাজেট ফিল্মে রোল দেয়ার পরিবর্তে তাকে বিছানায় চেয়েছিলেন এক নামকরা পরিচালক।

পার্চড ছবিতে এক যৌনকর্মীর ভূমিকায় রাধিকা আপ্তের সঙ্গে দেখা যাবে সুরভিনকে।

নয় বছর আগে একটি ছোট কন্নড় ফিল্ম দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু সুরভিন চাওলার। এরপর ফিল্ম জগতে উত্থানের ক্ষেত্রে তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে।

এই উত্থানেই পেয়েছেন অতি পরিচিত কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা। সুরভিনের অকপট স্বীকারোক্তি, 'আমি ভাগ্যবান যে, বলিউডে আমি ঠিকঠাক মানুষদের সঙ্গ পেয়েছি। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কখনও এ ধরনের কুপ্রস্তাবের মুখে পড়তে হয়নি।'

তিনি এও জানান, হতে পারে আমি আমার কথাবার্তায় এতটাই স্মার্ট ছিলাম যে, কখনও কেউ কোনো কুইঙ্গিত করার সাহস দেখাননি।

সুরভিনের ভাষ্যে, তবে তামিল সিনেমা করতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছি। অডিশনের পর আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র পেয়েছিলাম। ওটা খুব বড় একটা ফিল্ম ছিল। খুব নামকরা পরিচালক। যিনি নিজে হিন্দি জানেন না। তার কত বড় ধৃষ্টতা, এক বন্ধুকে দিয়ে ফোন করিয়ে তিনি আমায় তার সঙ্গে শোওয়ার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, যতদিন ফিল্মটি তৈরির কাজ চলবে, ততদিন আমাকে তার সঙ্গে এটা করতে হবে বলে জানান পরিচালকের বন্ধু। আমি বলি, না। ধন্যবাদ।

ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে পার্চডের মতো ফিল্মে ব্রেক পাওয়া। রাস্তাটা খুবই বন্ধুর ছিল সুরভিন চাওলার কাছে।

চণ্ডীগড়ের এই মেয়ে বলেন, 'বাবা-মা সব সময় আমার জন্য চিন্তা করতেন। তবে তীব্র সংগ্রামের পর আজকের এই স্বীকৃতি পেয়েছি।'

পার্চডে তার চরিত্রটিও বেশ বোল্ড। তার চেহারা-ছবিতে সেটাই ভালো মানায় বলেই হয়তো এমন রোল পেয়েছেন বলে জানান সুরভিন চাওলা।

তিনি বলেন, হেট স্টোরি-২ করার পর থেকে আমি বোল্ড ও সেক্সি চরিত্রে অভিনয় করার প্রচুর অফার পেয়েছি।

সুরভিন চাওলা বলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিটাই এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে। আমি ওই ফিল্মে তেমন একটা হট কিছু করিনি। এর প্রথম ও তৃতীয় ভাগে অনেক বেশি সেক্স মেটিরিয়াল ছিল।

নিজের সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আমার কোনো টাকা ছিল না, সাহায্য করার কেউ ছিল না, রান্না করে দেয়ারও কিছু ছিল না। আমি একেবারে একা ছিলাম। বাড়িটাকে খুব মিস করতাম।

এম এ