আজ বৃহস্পতিবার একটি দৈনিকের সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়েছে অভিনয়শিল্পী নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহ দম্পতির সাক্ষাৎকার। সেখানে তাঁরা কথা বলেছেন তাঁদের অভিনয়, ব্যক্তিজীবন ও হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক জানা-অজানা দিক নিয়ে। তবে সেই আলাপের অনেক অংশই প্রকাশ করা বাকি রয়ে গেছে। ২১ এপ্রিল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রি হলের সাজঘরে বসে নানান বিষয় নিয়ে এ দম্পতির সঙ্গে আলাপ করেন আদর রহমান। গুণী এ দুই শিল্পী সে সময় কথা বলেন টিভি নাটক ও সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ভিন্নধারার সিনেমা নিয়ে। সেই অপ্রকাশিত কথাগুলো এই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: রত্না পাঠক, আমি আপনার কাছে হিন্দি টিভি সিরিজ নিয়ে কিছু শুনতে চাই। আপনি তো ‘তারা’, ‘ফিল্মিচাক্কার’ আর ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’-এর মতো আলোচিত টিভি নাটকগুলোয় অভিনয় করেছেন। কিন্তু এখনকার হিন্দি টিভি সিরিজগুলো তো সেই নাটক থেকে একেবারেই আলাদা। এখনকার নাটকগুলো বাংলাদেশের দর্শকেরা খুব দেখেন। আপনার কি মনে হয়, হিন্দি টিভি সিরিজ নামে দর্শক যা দেখছেন, সেগুলো দেখার মতো? সেগুলো কি আদৌ নাটক?

রত্না পাঠক: না, আমার মনে হয় না। যে কনটেন্ট এখন চ্যানেলগুলো দেখাচ্ছে, সেগুলো খুব নিম্ন রুচির দর্শকদের জন্য বানাচ্ছে। বিচক্ষণ দর্শকদের জন্য তা নয়। আমি সেগুলোকে নাটক বলতে চাই না। বউ-শাশুড়ির ঝগড়া বলতে পারি। আমার কাছে সেগুলো বিনোদনমূলক মনে হয় না। তাই টিভি নাটক করাই বন্ধ করে দিয়েছি। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ ওয়েব সিরিজ হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসছে। আশা করি, এখন বিচক্ষণ দর্শকেরা তাঁদের মনের মতো এবং মানসম্মত বিনোদন খুঁজতে নতুন এই প্ল্যাটফর্মকে গ্রহণ করবেন। একটা সময় ছিল যখন তারা, ‘পরম্পরা’-এর মতো টিভি সিরিজ হতো। আমরা তখন ভাবতাম, টেলিভিশন হবে সবকিছু বদলে দেওয়ার হাতিয়ার। তা আর হয়নি। এখন তো টিভি নাটক মানেই ভয়ংকর আর বিরক্তিকর একটা বিষয়।

প্রশ্ন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাদের। এভাবে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ আমাদের জন্য বিশাল পাওয়া।
রত্না: জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রীদের নিয়ে তোমার করা প্রশ্নের জবাবে আরও কিছু কথা বলতে চাই। আমরা যে বলেছিলাম, সিনিয়র অভিনেত্রীদের কথা মাথায় রেখে গল্প লেখা হয় না, আমি একটু সংশোধন করব। সংখ্যাটা খুব কম হলেও কিছু গল্প লেখা হচ্ছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘নিল বাটে সান্নাটা’ নামের একটি ছবিতে কাজ করলাম আমি। আমার আরেকটি ছবির মুক্তি আটকে আছে, নাম ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরকা’। যদি সেটা মুক্তি পায়, তাহলে দর্শক ভিন্ন ভাবনার আরেকটি ছবি পাবে। তুমি ইদানীংকালের স্বরা ভাস্করের ‘আনারকলি অব আরা’ নামের ছবিটি দেখে থাকলে বুঝবে যে আসলে ভিন্নধারার ছবি তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই ছবিগুলো সেভাবে আলোচনায় আসছে না।

প্রশ্ন: হ্যাঁ, আমি আপনাদের মেয়ে হিবা শাহ অভিনীত ‘পূর্ণা’ ছবিটি দেখলাম। সেটাও কিন্তু একেবারে বলিউড ঘরানার ছাঁচের বাইরের ছবি হয়েছে।
রত্না পাঠক: হ্যাঁ, ‘পূর্ণা’। সেটাও কিন্তু প্রচলিত ধারার বাইরের ছবি। আমি যেমনটা বলছিলাম, পরিবর্তন আসছে। তবে গতি খুবই ধীর।
নাসিরুদ্দিন: খেয়াল করে দেখো, ভিন্ন ধারার ছবি হচ্ছে, তবে সেখানেও জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রীরা উপেক্ষিত। তা না হলে এত দিনে রেখা কিংবা হেমা মালিনীর মতো অভিনেত্রীদের নিয়ে কেন কোনো ভালো গল্পের ছবি হচ্ছে না?
প্রশ্ন: হ্যাঁ, শর্মিলা ঠাকুর একবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন তাঁর এমনই এক আক্ষেপের কথা। তিনি অভিনয় করতে চান। কিন্তু তাঁকে ভেবে কেউ কোনো গল্প লেখে না।

নাসিরুদ্দিন: একদম ঠিক। তাঁরা এমন অভিনেত্রী, যাঁদের অভিনয়ের জন্য এখন আর প্রস্তুতি নিতে হবে না। এমনকি তাঁদের নিয়ে গল্প লিখলে আলাদা করে আপনার অর্থায়নের কথা ভাবতে হবে না। সিনিয়র অভিনেত্রীরা একটা ভালো গল্পের অপেক্ষা করেন, গল্প পেলে তা অর্থায়নের সামর্থ্য রাখেন তাঁরা। কিন্তু আমাদের কাছে তাঁদের ভেবে লেখা কোনো গল্প নেই।