প্রশাসন বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো অচল অবস্থায় রয়েছে দেবিদ্বারের বিনোদন কেন্দ্রগুলো । এভাবে একে একে নাকের ডগায় বিলীন হতে চলেছে দেবিদ্বারের বিনোদন কেন্দ্র ।
সদরের নিউ মার্কেট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শহীদ জিয়া পৌর পার্কটির অবস্থা এতো নাজুক যে পার্ক বলতে অবশিষ্ট কিছু নেই। পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকে বছর খানেক চালু থাকলেও এখন ভবঘুর, নেশাখোরদের আনাগোনা, যত্রতত্র মূলমূত্র ত্যাগ, রেন্ট কারের গাড়ি ও প্রাইভেট হসপিটালের এ্যাম্বুলেন্স পার্কিংসহ কয়েকটি ফুটপাত দোকানের দখলে পুরো পার্কটি।
জানা যায়, দেবিদ্বার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শহীদ জিয়া পৌর পার্কটি বিগত চারদলীয় জোটের প্রভাবশালী সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর হস্তক্ষেপে নির্মাণ করা হয়। পার্কটির চার পাশে লোহার গ্রিল দ্বারা পরিবেষ্ট ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নানা রংয়ের বৈদ্যুতিক বাতি এবং বিশ্রামের জন্য উন্নত মানের টাইলস্ দিয়ে ঢেলনি নির্মাণ করা হলেও এখন কোন কিছুরই অবশিষ্ট নেই ।
সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এ পার্কে নানা জাতীয় দেশী- বিদেশী ফুলের চারা গাছ ছিল এখন তা নষ্ট হয়ে পরিনত হয়েছে বিভিন্ন আগাছা ও ঝোপঝাড়ে। আর এ ঝোপঝাড়ের আড়ালে পথচারী ও স্থানীয়দের মূলমূত্র ত্যাগই হয়েছে পার্কটির শেষ আশ্রয়স্থল। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানায়, এ পার্কটি এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধন ও বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশসানের কোন দৃষ্টি নেই এ পার্কটির উপর। এখন যে যার মত ব্যবহার করছে পার্কটি ।
এদিকে উপজেলার প্রবেশ ধারে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী পৌর শিশু পার্কটির অবস্থাও বেহাল দশা । পার্কটি চারদিকের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়ায় কুকুর, বিড়ালের প্রবেশ থেকে শুরু করে স্থানীয় বখাটেদের উৎপাত , নেশাখোরদের অভারন্য যাতায়ত ও ¯কুল/ কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ডিটিং জোনে পরিনত হয়েছে।
এ দুটি পার্ক নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে পৌর অফিসে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোন তথ্য কেউ দিতে পারেনি।
জানা যায়, ২০০৩ খ্রি.’র ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক তারিক- উল- ইসলাম এ পার্কটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০০৫ খ্রি.’র ২৭ এপ্রিল চারদলীয় জোটের স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উপস্থিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া এ পার্কটি উদ্বোধন করেন ব্যাপক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে।
উপজেলা সদরে বিনোদন কেন্দ্র বলতে এ দুটি পার্ক ছাড়া আর কিছু নেই, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্থানীয়দের জন্য কোন বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের কোন উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন- এ পার্ক গুলো দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত হয়ে আছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এতো দিন এ গুলোর সংস্কারের প্রস্তাব আসেনি এখন রাজনৈতিক ভাবেই সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে, খুব শিগগিরই উপজেলা পৌর শিশু পার্কটি সংস্কার করা হবে পর্যায়ক্রমে শহীদ জিয়া পৌর পার্কটি সংস্কারেরও উদ্যোগ নেয়া হবে।
দেবিদ্বারে একমাত্র মাজেদা আহসান গণপাঠাগারটিতে পাঠক সংখ্যা নেই । আলমারিতে বইয়ের তাক-এ জমেছে ময়লার স্তুপ, নেই কোন সংরক্ষণের ব্যবস্থা। পৌরসভার নির্বাচন না হওয়ায় এবং কোটি টাকা ব্যায়ে পৌর ভবন নিমার্ণের পরও অচল অবস্থা থাকায় পৌরসভার যাবতীয় কাজ চলে এ গণপাঠাগারে ।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আতিকুর রহমান বাসার জানান- বিনোদনের ক্ষেত্রে বরাবরই দেবিদ্বার অবহেলিত, সার্বিকভাবে বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরী করার সুযোগ থাকলেও উদ্যোগের অভাবে তা হচ্ছেনা যেটুকু ছিল তাও বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে ইঞ্জি: মুঞ্জুরুল আহসার পৌর শিশু পার্ক, মাজেদা আহসান পৌর পাঠাগার, শহীদ জিয়া পার্ক সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনে এবং জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নজরদারী ও পরিচর্চার অভাবে সেগুলোও প্রায় ধ্বংসের পথে।
এসব প্রতিষ্ঠান গুলো চালু এবং সংস্কারের পাশাপাশি দেবিদ্বার সদরের সাড়ে ১২ একরের মরা নদীটি যা ভূমি খেকোদের দখলে রয়েছে তা উদ্ধার করে বিনোদনের জন্য পার্ক, লেক ,জিমনেসিয়াম, সাতার শিখার পুকুর, টেকনিক্যাল কলেজ, সিএনজি ও বাস স্টেশন নির্মাণ সহ নানা প্রতিষ্ঠান নির্মান করা সম্ভব, এ দাবীগুলো দেবিদ্বারবাসীর দীর্ঘদিনের হলেও সরকার ও প্রশাসনের অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াবীদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি মো: কাইয়ূম রেজা জানান, বিনোদন কেন্দ্র নামে খ্যাত পার্কটিগুলো চোখের সামনে বিলীন হতে যাচ্ছে, পৌর প্রশাসনের সু-দৃষ্টি থাকলে এ র্পাক গুলো অক্ষত থাকত। পার্কগুলো সংস্কার করে পুনরায় চালু করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এসএ/টাইম নিউজ





