বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ জহির রায়হানের ৮৫তম জন্মদিন আজ সোমবার। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার। এই গুণি ব্যক্তি ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান।

জহির রায়হান ছিলেন একজন সফল সাংবাদিক, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম ১০ জনের যে দলটি ১৪৪ ধারা ভেঙেছিল, জহির রায়হান তাদেরই একজন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন সরাসরি। এ সময় ক্যামেরা হাতেও সক্রিয় ছিলেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ১৯৫৭ সালে উর্দু ভাষার 'জাগো হুয়া সাভেরা' ছবিতে সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি সঙ্গম নির্মাণ করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'। ১৯৭১ সালে জহির রায়হান নির্মাণ করেন কালোত্তীর্ণ প্রামাণ্যচিত্র 'স্টপ জেনোসাইড'। তার অন্যান্য ছবি- সোনার কাজল, কাঁচের দেয়াল, আনোয়ারা, বেহুলা, জ্বলতে সুরুজ নিচে এবং জীবন থেকে নেয়া। নির্মাণ শেষ করতে পারেননি লেট দেয়ার বি লাইট-এর কাজ।

তার প্রকাশিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্কগ্দুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন। শিল্প-সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার এবং বাংলা একাডেমির মরণোত্তর সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ।

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি অগ্রজ সাংবাদিক শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের সন্ধানে বেরিয়ে নিখোঁজ হন জহির রায়হান। ধারণা করা হয়ে থাকে, মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদারদের দখলে থাকা মিরপুরে শহীদ হন তিনি। তবে তার মরদেহটিও পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তি জীবনে জহির রায়হানের ছিল দুই স্ত্রী। একজন সুমিতা দেবী অন্যজন সুচন্দা। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে বিপুল রায়হান ও অনল রায়হান। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত নাট্য নির্মাতা। স্ত্রী সুচন্দার ঘরে আরেক ছেলে তপু রায়হানও অভিনেতা।

এএস