বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির (বিএফডিসি) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোট গণনায় ও ফলাফলে হেরফেরকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলে দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত ৫ এপ্রিল (শুক্রবার) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির নির্বাচন হয় । এই নির্বাচনে মিশা- জায়েদ পরিষদ জয় লাভ করে । তবে, এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাতিল ভোটের সংখ্যা নিয়ে কাটাছেড়াসহ ফলাফল ঘোষণা স্বচ্ছ না হওয়ায় অনেকের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বিএফডিসির মোট ভোটের সংখ্যা ৬২৪। এর মধ্যে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৫৮ টি। অপরদিকে, বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে ৮৯ টি এবং বৈধ ভোট দেখানো হয়েছে ৪৬৯ টি। এর মধ্যে সভাপতি প্রার্থী ওমর সানি পেয়েছে ১৫৩ টি ভোট, ড্যানি সিডাক পেয়েছে ৪৪ টি ভোট ও মিশা সওদাগর পেয়েছে ২৫৩ টি ভোট ।

অনুসন্ধানে জানা যায় কাস্ট হওয়া ৫৫৮ ভোটরে মধ্যে প্রথমে ১৩৬ টি ভোট বাতিল দেখানো হয় । এর পর বলা হয় আমাদের ভূল হয়েছে! পরে নতুন করে ৮৯ টি ভোট বাতিল দেখানো হয় শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে। কিন্তু এরপরও বিভিন্নভাবে হিসাবে বেশ কয়েকটি ভোটের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

বিএফডিসির ঘোষণা অনুযায়ী বিজয়ী সভাপতি মিশা সওদাগরসহ তিন সভাপতি প্রার্থী পেয়েছেন মোট ৪৫৬টি ভোট। এর সঙ্গে বাতিল হওয়া ৮৯টি যোগ করলে মোট ভোটের পরিমান দাঁড়ায় ৫৪৫। অথচ মোট ভোট পড়েছে ৫৫৮টি। তাহলে বাকি ১৩টি ভোট কোথায় গেল- সেই প্রশ্ন অনেকের।

অপরদিকে, ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ তিন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পেয়েছেন মোট ৪৬৫টি ভোট। এর সাথে বাতিল হওয়া ৮৯টি ভোট যোগ করলে ভোটের পরিমান দাঁড়ায় ৫৫৪। তাহলে বাকি ৪টি ভোট কোথায় গেল? একইভাবে অন্যান্য পদে হিসাব করলেও কিছু ভোটের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

অনেকের মনে প্রশ্ন চলচ্চিত্র সমিতির মতো জায়গায় যারা কাজ করছেন তারা যথেষ্ট সচেতন। তাদের মাত্র ৫৫৮টি ভোটের মধ্যে ৮৯টিই বাতিল হলো এটা অবিশ্বাস্য। এছাড়া বাতিল ভোটের সংখ্যা দুইবারে দুইরকম দেখানো, ফলাফল শীটে কাটাছেড়াসহ নানা কারণে অনেকেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কারচুপির আশংকা প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্প সমিতির বেশ কিছু নেতা বলেন, গত রাত্রে ভোট গণনা কক্ষে কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। এক সিনিয়র নেতা বলেন, শাকিব খানকে যখন বিএফডিসির ভোট গণণার কক্ষে থেকে মদ্যপানের অভিযোগে মারধর করে বের করে দেয়া হয় তখনই আমি বুঝেছিলাম ভেতরে ভেতরে কোন ষড়যন্ত্র চলছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানা যায় , ভোট গণনার সময় মধ্যরাতে এফডিসিতে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নির্বাচনের রাত পৌনে ২টার দিকে সদ্যবিদায়ী কমিটির সভাপতি চিত্রনায়ক শাকিব খান ভোট গণনা কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাঁধা দেওয়া হয় এবং মারধরও করা হয়। শাকিব বলেন, তাকে চক্রান্ত করে মারধর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাকিব বলেন, নির্বাচনে পাস না করতেই আমার উপর জায়েদ খানের লোকেরা হামলা চালায় । তিনি বলেন, প্রথমে আমার গাড়ির গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। তার পরে কেউ কেউ আবার আমাকে বলেন মদ্যপান করে এসেছি। তিনি বলেন, আমার কাছে বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও সাধারণ সদস্যরা বলেন, ভেতরে ভোট কারচুপি হচ্ছে। এই জন্য আমি ভোট গণণা ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে আমাকে জায়েদ খানের লোকেরা মারধর করে।

শাকিব বলেন, সমিতির ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ বর্তমান নির্বাচিত নেতৃবৃন্দরা শপথ নেয়ার আগ পর্যন্ত আমি সমিতির সভাপতি। এ দায়িত্বে থেকে আমি কোনো অভিযোগ পেলে সেটা খতিয়ে দেখতে ভেতরে যেতেই পারি। কিন্তু আমাকে সেটা করতে না দিয়ে উল্টো আমার ওপর হামলা করা হল। মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই আমার উপর হামলা করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মোমতাজুর রহমান আকবর বলেন, শিল্প সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গতকাল রাতে (৫ এপ্রিল) শাকিবের উপর হামলার ঘটনার বিষয়টা আমি ভালভাবে জানিনা। তবে আমিও মানুষের মুখে শুনছি। প্রথমে যে ১০২টি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল সে ব্যাপারে মোমতাজুর রহমান আকবরের কাছে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, মনে হয় দু- একটা ভোট গণনায় ভুল হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের ঘোষণা যেহেতু হয়ে গিয়েছে, পরে এটা সঠিক করা হবে বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন বিএফডিসি নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মোমতাজুর রহমান আকবর।
খাজা সিকদার