২৯ মে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত একটি উৎসবে পারফর্ম করেন জেনিফার লোপেজ। তার এ পারফর্মেন্স পরবর্তীতে প্রচার করা হয় সে দেশের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে ‘টু এম’-এ। এরপর তৈরি হয় বিতর্ক। অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতা প্রচারের অভিযোগ উঠেছে দেশটির প্রচারমন্ত্রী এবং লোপেজের বিরুদ্ধে।
মরক্কোর স্টেজে ‘জে-লো’ পরেছিলেন ফিসনেটের পোশাক। স্বচ্ছ পোশাকে শরীরের নিম্নাঙ্গ প্রায় অনাবৃতই ছিল। জেনিফারের অনুষ্ঠান মানেই সেখানে থাকবে শরীরের উচ্ছ্বাস। এখানেও ব্যতিক্রম ছিল না। স্বচ্ছ পোশাকে জেনিফারের শরীরি আবেদন যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল তাতেই আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। তার মধ্যে ছিলেন মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মিউজিক ফেস্টিভ্যালের রক্ষণশীল শ্রোতা-দর্শকও।
এদিকে টিএমজেডের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একটি ছাত্র সংগঠন লোপেজের বিরুদ্ধে জনগণের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নারীদের সম্মান ও মর্যাদা অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।
যদি বিষয়টি নিয়ে মামলা হয় এবং লোপেজ দোষি প্রমাণিত হয় তা হলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গত সপ্তাহে, লোপেজের এ গান রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে প্রচারের জন্য মরক্কোর তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রীকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এমনকি তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। স্থানীয় মিডিয়া লোপেজের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করে।
এর আগেও লোপেজ মরক্কোতে পারফর্ম করেছেন। কিন্তু তখন তাকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। যদিও এবারই তার কনসার্ট প্রথমবারের মতো সে দেশের টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মি. বেনখাইরেন বিষয়টি খুব শিগগিরি তদন্ত করে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রচারিত অনুষ্ঠানে আপত্তিকর অনেক দৃশ্য ছিল। তার দেশে অশ্লীলতা প্রচারের বিষয়টি আইনের পরিপন্থী।
তিনি জানান, লোপেজের পারফর্মেন্সটি ছিল অশালীন এবং আবেদনময়ী।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরনের অশালীন এবং আবেদনময়ী ব্যাপার ধর্মীয় এবং মরক্কোর আদর্শের পরিপন্থী। যারা প্রচারের বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তারা আপত্তিকর দৃশ্য বাদ দিতে পারত। কারণ কনসার্টটি একটু দেরিতে প্রচার করা হয়।
তিনি এ ব্যাপারে মরক্কোর প্রচার মাধ্যমের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দোষিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
কেএইচ





