শাবানা আর ববিতা বোরখা পরছে, পাঁচ বেলা নামাজ পড়ছে, কোরআন পড়ছেন এতে কিছু লোক তাজ্জব। আহ! শাবানা ববিতা তো এই সমাজেরই মানুষ। এই সমাজের অনেকেই যৌবনে ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যস্ত না হলেও বয়সটা একটু বেশি বেড়ে গেলে ধর্মকর্মে ডুবে যায়। অবাক হওয়ার কী আছে এতে?
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুকে একসময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী শাবানা ও ববিতার বর্তমান সময় নিয়ে লিখেছেন।
তার লেখানুযায়ী –
তারা ছবিতে অভিনয় করেছে, অভিনয়টা ছিল তাদের জীবিকা। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়াররাই ধর্মভীরু হচ্ছে, অভিনেত্রীদের ধর্মভীরু না হওয়ার পেছনে কী যুক্তি!
আমার স্যুটেড বুটেড দাদা, যে কিনা চিরকালই আমার লেখার খুব ভক্ত, শুনেছি দাড়িটুপি নামাজ রোজা তসবিহ ধরেছে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। হ্যাঁ সেটা ছিল আকাশ থেকে পড়ার বিষয়। ধর্মবাদের বিপক্ষে আর নারীবাদের পক্ষে আমার লেখাগুলো যে গোগ্রাসে গিলতো আর ব্যাপক প্রশংসা করতো তার কী এমন ঘটলো যে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলো।
আসলে দাদার হাতে অনেক বেশি টাকা পয়সা চলে এসেছে। দুটো মাত্র বোন, এই দুটো বোনকে ঠকিয়ে বাবার সমস্ত সহায় সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। এ জগতের আরাম আয়েশ বেশি হলে ওই জগতের আরাম আয়েশটার জন্য লোভ জাগে।
ছোটবেলায় দেখেছি মা তাকে নামাজ পড়তে বললে বলতো, আল্লাহ যদি না পড়ায়, তাহলে কি আমার কোনো শক্তি আছে নামাজ পড়ার, মা? আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটা পাতাও যেখানে নড়ে না, সেখানে আমি কী করে নড়বো? সেই দাদা এখন নিশ্চয়ই আল্লাহর হুকুমে পাঁচ বেলা তো পড়ছেই নামাজ, নফলটাও বাদ দিচ্ছে না।
আল্লাহ হঠাৎ করে দাদার প্রতি বেশ সদয় হয়েছে, দাদার অঢেল বিত্তের ব্যবস্থা যখন করে দিয়েছে। কেউ কেউ বলে, পাপীদেরই মনে জাগে দোযখের ভয়। জানিনা আমাদের ঠকিয়ে পাপবোধ জেগেছে কি-না দাদার। জাগলে পাপমুক্তির উপায় তো আছে। প্রথম উপায়, যাদের ঠকানো হয়েছে, তাদের আর না ঠকানো, তাদের প্রাপ্য তাদের বুঝিয়ে দেয়া।
দ্বিতীয় উপায়, নামাজ রোজা করো, হজ্জ করো, আল্লাহকে ডাকো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। দ্বিতীয় উপায়টাই দাদা বেছে নিয়েছে। কারণ এটা বেশ সহজ উপায়। এতে তার আত্মসাৎ করা টাকাপয়সা জমিজমা নিজের অধিকারে রইলো, পাপটাও ক্ষমা হয়ে গেলো, প্লাস দাড়ি টুপি নামাজ রোজা তসবিহর কারণে বেহেশতটাও কনফার্ম হয়ে গেল।
আল্লাহ যে পরম করণাময়, চরম দয়াশীল, সে কি লোকে আর সাধে বলে?
ইআর





