পাকিস্তানে বিয়েবাড়িতে গান গাওয়ার ‘অপরাধে’ ভারতে জনপ্রিয় গায়ক মিকা সিংকে মঙ্গলবার নিষিদ্ধ ।
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঠিক এমন একটি সময়ে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ঘনিষ্ঠ এক কোটিপতি ব্যবসায়ীর মেয়ের বিয়েতে মিকা সিং ও তার দলের গান গাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে মিকা সিংকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।
মিকা সিংকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস, মিউজিক কোম্পানি ও অনলাইন মিউজিক কনটেন্ট প্রোভাইডাররা মিকাকে বয়কট করছে।
এখানে শেষ না, কোনো ভারতীয় শিল্পী বা আয়োজক যাতে মিকা সিংয়ের সঙ্গে কাজ না করে, সেদিকে নজর রাখা হবে। নির্দেশ না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘ডেইলি জং’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের বর মিকার বড় ভক্ত হওয়ায় মূলত তার আবদার রাখতেই মিকার ‘লাইভ পারফরম্যান্সের’ আয়োজন করেন তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।
শ্বশুরের উচ্চ পর্যায়ের চেনাশোনার সুবাদে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স এবং ভিসাও চলে আসে মিকা এবং তার ব্যান্ডের জন্য। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিকা এই অনুষ্ঠানের জন্য পেয়েছেন ১৫০,০০০ মার্কিন ডলার, ভারতীয় হিসেবে যা প্রায় ১০ কোটি ৭ লক্ষ রুপি।
কিন্তু জনপ্রিয় এই পাঞ্জাবি গায়কের এহেন আচরণে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন তার ভারতীয় ভক্তরা। টুইটারে এক ফ্যান লেখেন, “আপনার লজ্জা হওয়া উচিত, বিশ্বাসঘাতক।” আরেক ফ্যানের কথায়, “মিকা সিং পাজি (দাদা), আমরা ভারতীয়রা আপনাকে এত ভালোবেসেছি…আর এখন এই অবস্থায়, যখন পাকিস্তান আমাদের সঙ্গে সব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, সীমার ওপার থেকে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে, আমাদের মধ্যে যখন এত টেনশন, কেন আপনি পাকিস্তানে গেলেন অনুষ্ঠান করতে? ভারতের চেয়ে ক’টা টাকা বড় হলো?”
অন্যদিকে, পাকিস্তান পিপলস পার্টির বিরোধী দলনেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ দাবি জানিয়েছেন, বর্তমানের কূটনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় গায়ক এবং তার ১৪ জনের দলকে কীভাবে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স এবং ভিসা দেয়া হলো, তা তদন্ত করে দেখা উচিত পাকিস্তান সরকারের। “ভারতের ছবি, নাটক, টিভি-র অনুষ্ঠান, সবকিছু এখন নিষিদ্ধ।
পাকিস্তান তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকারকে। ভিসা যদি এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগে জারি করা হয়েই থাকে, সেগুলো বাতিল হওয়া উচিত ছিল,” বলেন শাহ।
উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করা, এবং রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান।
কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটানো এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও বাতিল করে দেয় পাকিস্তান।
এএস





