‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছবির দৃশ্যে ফেরদৌস ও নিপুণ‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছবির দৃশ্যে ফেরদৌস ও নিপুণমাদককে না বলা নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘স্বর্গ থেকে নরক’ গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। এরপর দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। সরকার মাদকের ভয়াবহতার কুফল সম্পর্কে সারা দেশের মানুষকে আরও বড় পরিসরে সচেতন করতে ছবিটি বিশেষ উপায়ে প্রদর্শন করবে।

আর এ জন্য দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছবিটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আখতারুজ্জামান তালুকদার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা ও উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছবিটি বানানো হয়েছে। এই ছবিটি দেশের যুব সমাজকে মাদকাসক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবে। আর তাই ছবিটি দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বর্গ থেকে নরক ছবির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস ও নিপুণ। ছবিতে নিপুণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, যে একসময় দেশের একজন জনপ্রিয় র‍্যাম্প মডেল হয়ে ​ওঠেন। আস্তে আস্তে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরে তা থেকে মুক্তি পেতে চান। পুনর্বাসন কেন্দ্রে ফেরদৌসের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর।

মাদক থেকে মুক্তি পেতে ফেরদৌস আর নিপুণ একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করেন। এরপর ঘটে অনেক নাটকীয় ঘটনা। মাদক থেকে ফিরে আসা যে খুব সহজ আবার মোটেই সহজ নয়, এই দুটো দিকই সার্থকভাবে তুলে ধরা হয়েছে স্বর্গ থেকে নরক ছবিতে।

নিপুণ বললেন, ‘পুরো ছবিতেই আমি অভিনয়ের অনেক জায়গা পেয়েছি। চেষ্টা করেছি পুরো ব্যাপারটিকে শতভাগ বাস্তবসম্মত করে তুলতে।’

ফেরদৌস ‘প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলন’-এর সঙ্গে জড়িত আছেন শুরু থেকেই। অংশ নিয়েছেন অসংখ্য অনুষ্ঠানে। কথা বলেছেন মাদকাসক্তদের সঙ্গে, কাছ থেকে শুনেছেন মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ছেলে-মেয়েদের কথা। জানালেন, ‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছবিতে কাজ করার সময়টাতে এই অভিজ্ঞতার পুরোটাই কাজে লেগেছে তাঁর।

‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছবির শুটিংয়ের সময় ফেরদৌস তেজগাঁও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে যান। এ অভিজ্ঞতা জানাতে ​গিয়ে তিনি বললেন, ‘আমার কাছে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যাপারে কোনো ধারণা ছিল না। ওখানে যাওয়ার পর দেখেছি, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে শপথ করছে, জাতীয় সংগীত গাইছে।

দেশপ্রেম, ধর্মের প্রতি মমতা, বড়দের সম্মান জানানোএই দিকগুলোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আসলে মাদকাসক্ত হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে এই দিকগুলো পুরোপুরি লোপ পায়। দৃশ্যগুলো করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আমিও মাদকাসক্ত একটা ছেলে, এই অন্ধকার জগৎ থেকে মুক্তি চাই। দৃশ্যটা খুব বেশি বাস্তবসম্মত করে তোলার জন্য তা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে।’

এমই