'দ্য ট্রুম্যান শো’ সিনেমাটির কথা মনে আছে? একটি ছেলের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা-- সবই ঘটে একটি রিয়েলিটি শোর মধ্যে। কিন্তু সে তো সিনেমার গল্প। বাস্তবে কি আর এমনটা ঘটে? কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এলার কোলট্রেইনের জীবনে অনেকটা এমনটাই ঘটেছে। ছেলেটির বালকবেলা পুরোটাই কেটেছে ‘বয়হুড’ সিনেমার পর্দায়।

সেলুলয়েডে কোলট্রেইনের শৈশব থেকে তারুণ্যে পা দেওয়া পযর্ন্ত সময়ে ধরে রাখতে চেয়েছেন নির্মাতা রিচার্ড লিঙ্কলেটার। আর তাই একটি সিনেমা তিনি নির্মাণে তার সময় লেগেছে পুরো এক যুগ।

আজকের ১৮ বছরের কোলট্রেইন ছয় বছর বয়স থেকে অভিনয় করছেন সিনেমাটিতে। ‘বয়হুড’ নামের এই কামিং-অফ-এজ ড্রামা তাই সত্যিকার অর্থেই কোলট্রেইনের বেড়ে ওঠার গল্প।

‘স্কুল অফ রক’, ‘বিফোর সানরাইজ’-খ্যাত নির্মাতা লিঙ্কলেটার আগে থেকেই পরিচিত ভিন্নধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা তৈরির জন্য। ‘বয়হুড’ও তার ব্যতিক্রম নয়। সিনেমার গল্প এগিয়েছে টেক্সাসের মেসন জুনিয়রকে নিয়ে, যার বাবা মেসন ও অলিভিয়ার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। শৈশব পেরিয়ে টিন-এইজে প্রবেশ করা মেসন জুনিয়রের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের বোঝাপড়ার গল্পই ‘বয়হুড’-এর মূল উপজীব্য। আর সে জন্য ২০০২ এর গ্রীষ্ম থেকে ২০১৩ এর শেষ পর্যন্ত শুটিং চালিয়ে গেছেন লিঙ্কলেটার। চলতি বছর সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভালে দেখানো হয় সিনেমাটি।
“আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম শুরুর দিকে। কিন্তু তখনও বুঝতে পারিনি, ১২ বছর আসলে কতটা লম্বা সময়। এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা কীভাবে আমার জীবনকে বদলে দেবে, সেটাও বুঝিনি তখন।”-- ‘বয়হুড’ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানান কোলট্রেইন।

লিঙ্কলেটারের জন্যও সিনেমাটি দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ১২ বছর কেবল একটি সিনেমার পেছনে ব্যয় করাটাকে অনেকেই খ্যাপামি বলবেন; কিন্তু লিঙ্কলেটারের ভাষ্যে এটাই তার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।

“আমার শিল্পীজীবনের সবচেয়ে বড় এই সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তে।”

লিঙ্কলেটার এমনটা বলতেই পারেন এখন। ‘বয়হুডই যে তাকে এনে দিয়েছে ৬৪ তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা পরিচালকের পুরস্কার ‘সিলভার বিয়ার’।

সিনেমায় কোলট্রেইনের বাবা-মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইথান হক আর প্যাট্রিসিয়া আরকুয়েট্টে। অস্কার মনোনয়ন পাওয়া হক সিনেমাটি নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, সিনেমাটি আসলে জীবনেরই গল্প।

“আমার মনে আছে, ছয় বছরের এলারের দিকে তাকিয়ে আমি বলেছিলাম- ‘তুমি কী হতে চাও?’ আর পরিচালক আমাদের খুব শক্তভাবেই আমাদের বলেছিলেন, ‘আমরা সাধারণ কোনো গল্পকাঠামো দিয়ে এই সিনেমা বানাচ্ছি না। আর দশটা সাধারণ সিনেমার মতো হবে না ‘বয়হুড’। সিনেমাটি হবে জীবনেরই গল্প।”

ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই