অনেক ‘প্রথম’ সঙ্গী করেই জীবন কাটাতে হয়। নিতে হয় অভিজ্ঞতা। তারকাদের জীবনেও এমন প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের এমন প্রথম পাঁচটি অভিজ্ঞতা নিয়েই চালু হলো নতুন বিভাগ প্রথম পাঁচ।
মৌসুমী হামিদ প্রথম প্রেম
আমি তখন খুলনা আজম খান কমার্স কলেজে পড়ি। ছেলেটির সঙ্গে একই ব্যাচে কোচিংয়ে পড়তাম। ছেলেটির নাম না বলি। টানা চার বছর আমাদের প্রেম ছিল। কোচিংয়ে পড়ার সময় প্রথম প্রথম আমাদের দুজনের মধ্যে চরম শত্রুতা ছিল। কথা বলা তো দূরের কথা, সামনাসামনি পড়ে গেলে দুজনই উল্টো দিকে হাঁটা দিতাম।
এভাবে চলতে চলতে তিন বছরের মাথায় শত্রুতা থেকে দুজনের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আমরা একে অপরকে ‘তুই’ সম্বোধন করতাম। আমরা দুজনই নিজেদের ব্যক্তিগত সব বিষয়ই একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করতাম। কীভাবে জানি, একসময় প্রেম হয়ে গেল।
মফস্বল শহর। সব সময় আমরা একসঙ্গে ঘুরতে পারতাম না। দু-তিন মাস পরপর আমরা একসঙ্গে বের হতাম। রিকশায় চুপি চুপি সারা শহর ঘুরে বেড়াতাম। ঠিক চার বছরের মাথায় আমাদের প্রেম ভেঙে যায়। কিন্তু বন্ধুত্ব নষ্ট হয়নি। ছেলেটি এখন এমবিএ পড়ছে। এখনো খুলনায় গেলে দেখা হয়, আড্ডা হয়।
প্রথম শুটিং
‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা চলাকালীন ছোটখাটো শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। ২০১১ সালে প্রতিযোগিতা থেকে বের হওয়ার এক মাসের মাথায় প্রথম নাটকের শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। নাটকটির নাম ছিল বাংলা আমার মায়ের ভাষা। সহশিল্পী শাহেদ শরীফ খান। নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন খালেদ মাহমুদ মিঠু।
শুটিং হয়েছিল রাঙামাটিতে। মজার ব্যাপার হলো, প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সময় কোনো ভয়ভীতি কাজ করেনি। কিন্তু শুটিংয়ের জন্য প্রথম রাঙামাটি যাওয়ার বিষয়টি ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। পাহাড়, সবুজ অরণ্য দেখে দেখে শুটিং করছিলাম আর রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। আমার মনে আছে, মিঠু ভাই আমাকে চাকমাদের তৈরি টুপি ও থামি কিনে দিয়েছিলেন। ওগুলো পরেই শুটিং করেছিলাম।
প্রথম পারিশ্রমিক
প্রথম উপার্জন ছিল একটি ফ্যাশন হাউসের ফটোসেশন করে। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা থেকে বের হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় ফটোসেশনের জন্য ডাক এল। আমি, রাখি ও নিশা তিনজন মিলে সেই ফটোসেশনেও অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছিল। ওটাই আমার প্রথম আয়। তাই খরচ করতে ইচ্ছা করছিল না। যে খামে ভরে টাকা দিয়েছিল, সে খামটি ওভাবেই ঘরে রেখে দিয়েছিলাম অনেক দিন।
প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়া
গ্রামের নাটকে প্রথম শুটিং করতে গিয়েছিলাম সেদিন। এই মুহূর্তে গ্রামটির নাম মনে নেই। শুটিংয়ের অবসরে বসে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় একদল ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এসে ঘিরে ধরল। অটোগ্রাফ চায়। আমার সঙ্গে শুটিং ইউনিটের অনেকেই ছিলেন। অটোগ্রাফ দেওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা হলো সেবার। একটু লজ্জাও পাচ্ছিলাম, আর মজাও লাগছিল। এখনো স্পষ্ট মনে আছে, অটোগ্রাফে লিখেছিলাম ‘উইথ লাভ মৌসুমী হামিদ’।
প্রথম বই পড়া
চতুর্থ অথবা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন। ওই সময় বাসায় ছোট চাচা নিয়মিত মাসিক রহস্য পত্রিকাটি রাখতেন। পত্রিকাটিতে ছোট ছোট গল্প থাকত। আমি চুরি করে করে সেই সব গল্প পড়তাম। এরপর বড় হয়ে প্রথম পড়ি হুনমায়ূন আহমেদের জোছনা ও জননীর গল্প উপন্যাসটি। মনে আছে, স্কুল লাইব্রেরি থেকে আমার ফুফাতো বোন উপন্যাসটি নিয়ে এসেছিলেন।
এরপর আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হই। সেই সময় মহাশ্বেতা দেবী ও শীর্ষেন্দুর লেখা বই পড়েছি। এখন অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। বই পড়ার সময় খুব একটা হয় না।
এমআর





