দুই দশক আগে রাজস্থানে শুটিংয়ে গিয়ে বেআইনিভাবে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেছিলেন সুপারস্টার সালমান খান।বৃহস্পতিবার সেই মামলায় বলিউড টাইগার এখন খাঁচায় বন্দি। তিনি এখন যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘কয়েদি নম্বর ১০৬’।
জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না ‘বন্দি’ সালমান। থাকতে হবে সাধারণ অপরাধীর মতোই। যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই এখন রয়েছে ধর্ষণে অভিযুক্ত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। তার সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রয়েছেন সালমান।
দুই নম্বর ব্যারাকের দুই নম্বর সেলে রাখা হয়েছে তাকে। এখানে অবশ্য এর আগে তিন দফায় ১৮ দিন কাটিয়েছেন সালমান। যথাক্রমে ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে। সব কটি মামলাই হরিণ চোরাশিকারের। যোধপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম দেব কুমার খাতরি বৃহস্পতিবার এ রায়ে সালমানকে কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করেছেন।
রায়ে বিচারক বলেন, আসামি যেহেতু একজন চলচ্চিত্র তারকা, মানুষ যেহেতু তাকে দেখে, তাকে অনুসরণ করে আর আসামি যেভাবে নিষ্পাপ হরিণ হত্যা করেছে আর সেটি যেহেতু অবৈধ, সেহেতু তাকে এ সাজা দেয়া হয়েছে।
এ সময়ে আদালত তাকে স্বভাবসিদ্ধ অপরাধী বলে আখ্যায়িত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে হাম সাথ সাথ হ্যায় সিনেমায় শুটিংয়ে যোধপুরে গিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনে বিরল প্রজাতির দুটি হরিণ শিকার করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার যোধপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার খতরি এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার রূপি জরিমানাও করা হয়। একই মামলার অভিযোগ থেকে অভিনেতা সাইফ আলী খান, নীলম এবং অভিনেত্রী টাবু ও সোনালী বেন্দ্রেকে অব্যাহতি দেয় আদালত।
রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারের রাতটা জেলেই কাটাতে হয়েছে বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা সালমান খানকে। জেলখানায় তিনি ১০৬ নম্বর কয়েদি। চার দেয়ালের মাঝে বর্তমানে এটাই বলিউড ভাইজানের পরিচয়। জামিন না হওয়া পর্যন্ত এই পরিচয় নিয়েই তাকে হাজতবাস করতে হবে।
২০ বছর আগে ভারতের রাজস্থানে ২টি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় ৫ বছরের জেল দেয়া হয়েছে বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানকে।
বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত করে যোধপুরের আদালত রায় ঘোষণা করে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার খত্রী এ রায় প্রদান করেন।
এর আগে ভারতের ইন্ডিয়া ডটকম’সহ শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যম সালমানের ২ বছরের সাজা হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশ করে।
একই মামলায় অন্য ৪ অভিযুক্ত ছিলেন- সাইফ আলি খান, টাবু, নীলম এবং সোনালি বেন্দ্রে। তাদের বেকসুর ঘোষণা করেছেন আদালত।
সালমান খানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বতের দাবি ছিল, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতেই পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমনকী, বন্দুকের গুলিতেই যে হরিণ দু’টির মৃত্যু হয়েছিল, তাও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন সারস্বত।
২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়।সূত্র: বিবিসি অনলাইনের।
এমআর





