কলকাতার সিনেমার জনপ্রিয় জুটি জিত-কোয়েলকে দীর্ঘ চার বছর পর আবারো পর্দায় দেখা গেলো। একদম নতুন মোড়কে ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ নিয়ে টলিউডের পর্দায় হাজির হলেন এই জুটি। কিন্তু মুক্তির আগে ব্যাপক আলোচনায় থাকা দুর্বল সংলাপের কারণে দর্শক মহলে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ সিনেমাটি।
তবে এ ছবিতে রোম্যান্টিক কমেডির কেবল ফর্মুলাই ব্যবহার করলেন পরিচালক। ছবিতে জিতের চরিত্র আদিত্য। বিয়ের রাতেই বন্ধুর প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। বেনারসে গিয়ে হঠাৎ আলাপ হয় ডানপিটে মেয়ে রাইয়ের সঙ্গে। সুন্দরী কলেজগার্ল পটানোর নানা উপায়, মানে যা যা আমরা কমার্শিয়াল ছবিতে দেখে থাকি, সবরকমই ট্রাই করে আদিত্য।
তবে ফর্মুলার মধ্যেও কোয়েল দিনকেদিন অসম্ভব ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠছেন। অভিনয়ের যে-দিকটায় তিনি বেশ জোর দিয়েছেন, সেটা হল কমিক টাইমিং। ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ এমনই একটা ছবি, যেখানে কমেডি আর্টিস্টরাই ট্রফিটা নিয়ে যাবেন। খরাজ মুখার্জি ও বিশ্বজিত্ চক্রবর্তীর কথোপকথনের দৃশ্য একটু অন্যরকম বাতাস আনে।
জ্যোতিষীর চরিত্রে শুভাশিস মুখার্জিও দারুণ। ছবিতে এদের অভিনয়টাও উপভোগ করার মতো। আপাতদৃষ্টিতে ভিলেনের চরিত্র হলেও, কমিক সিকোয়েন্সে আশিস বিদ্যার্থীও কম নন। আর যাই হোক না কেন কালার প্যালেটটা সুন্দর ব্যবহার করেছেন সিনেমাটোগ্রাফার। বেনারসে সুন্দর সেট ডিজাইনিং, সং সিকোয়েন্সে ক্লোজআপ আর এক্সট্রিম ক্লোজ-আপের অনবদ্য শট ভালই লাগবে। স্ক্রিপ্টটা তেমন আশাপ্রদ নয়।
সংলাপে এমন সব বাংলা প্রবাদ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আজকাল সাধারণ মানের মেগাসিরিয়ালে শোনা যায়। যে ভাষায় আমরা স্বাভাবিক কথাবার্তা বলি না, কাঁচা হাতে লেখা সেই সব সংলাপও কষ্ট করে আওড়াতে হয়েছে অভিনেতা অভিনেত্রীকে। কানে বেশ খটকা লাগে। তবে গানের দৃশ্যে বেশ স্বচ্ছন্দ দুজনেই। ছবির দ্বিতীয়ার্ধে গল্পের গতিও বেশ স্লো। ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছাতে অনেকটাই সময় লেগে যায়।
জিত-কোয়েলের সেরা ছবি বলা যাবে বলে মনে হয় না, কিন্তু যারা কেবল মাত্র বিনোদনের জন্যই ছবি দেখেন। এই ছবিটি দেখে তারা খুব একটা নিরাশ হবেন না সেকথা বলাই যায়।
ইআর





