হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধে আন্দোলনকারীদের কোনো চলচ্চিত্র সিনেমা হলে প্রদর্শন করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন প্রদর্শক সমিতির নেতারা।

চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের মানববন্ধন ও সিনেমা হল ঘেরাওয়ের ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি সুদীপ্ত কুমার দাশের পাঠ করা ওই বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই। পরিচালক সমিতির সহসভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ও মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, শাকিব খান, মিশা সওদাগর গংদের নেতৃত্বে সিনেমা হলে আক্রমণের যে ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের পরিচালিত ও অভিনীত কোনো চলচ্চিত্র আমাদের সিনেমা হলে চালানো হবে না মর্মে আমাদের নির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

সুদীপ্ত কুমার দাশ বলেন, ‘চলচ্চিত্র ঐক্যজোট যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে তাদের সে সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ রফিক উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হামিদ ও মেহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে লাগানো ব্যানারে স্লোগান হিসেবে লেখা হয় ‘সিনেমা হল বাঁচলেই চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচবে’।

আমদানি করা হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রদর্শন দেশীয় চলচ্চিত্রে খারাপ প্রভাব ফেলবে কিনা?— এ প্রশ্নে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এর আগেও বংলাদেশে বিদেশী চলচ্চিত্র আমদানি করা হয়েছে। সে সব চলচ্চিত্র হলে চলেছে। তাতে করে আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের কোনো ক্ষতি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি নিয়ম ও আইন কানুন মেনেই এ দেশে উপমহাদেশীয় ভাষার (হিন্দি) চলচ্চিত্র আমদানি করা হয়েছে। হাইকোর্ট ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও এই বিষয়টিতে অনুমোদন রয়েছে। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে না বলে সিনেমা হলগুলোতে এখন আর দর্শক যাচ্ছে না। যার কারণে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ও সিনেমা হলকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই ভারত থেকে ছবি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছি।’

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড় পেয়েছে আরো দুটি হিন্দি চলচ্চিত্র— থ্রি ইডিয়টস ও ডন টু।

উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধে ১৯ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্যজোট’।

জেএ