বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে দাপুটে ও শক্তিশালী অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক আজ আর বেঁচে নেই। দেশের কোটি ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
নায়ক রাজ রাজ্জাক
নাম: আবদুর রাজ্জাক। উপাধি: নায়করাজ (উপাধি দিয়েছিলেন চিত্রালি সম্পাদক আহমেদ জামান চৌধুরী)।
জন্ম: ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪২ সাল।
জন্মস্থান: নাকতলা, দক্ষিণ কলকাতা, ভারত।
জাতীয়তা: বাংলাদেশি।
বাবা: আকবর হোসেন।
মা: নিসারুননেছা।
স্ত্রী: খাইরুন্নেছা (ভালোবেসে লক্ষ্মী বলে ডাকতেন)।
সন্তান: বাপ্পারাজ (রেজাউল করিম), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না, খালিদ হোসেইন সম্রাট।
পেশা: অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক।
অভিনয়ের শুরু: কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্বরসতী পূজায় মঞ্চ নাটকে। গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। প্রথম অভিনীত নাটক ‘বিদ্রোহী’।
সিনেমায় প্রবেশ: কলেজজীবনে ‘রতন লাল বাঙালি’সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়া কলকাতায় ‘পঙ্কতিলক’ও ‘শিলালিপি’নামে আরও দু’টি সিনেমায় অভিনয় করেন।
বাংলাদেশে আগমন: ১৯৬৪ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।
ঢালিউডে নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র: জহির রায়হানের বেহুলা।
প্রথম নায়িকা: সুচন্দা।
জুটি: কবরী।
নায়ক হিসেবে শেষ ছবি: ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। শেষ ছবি মালামতি। নায়িকা ছিলেন নূতন।
নায়ক চরিত্রের বাইরে অভিনয়: ১৯৯৫ সাল থেকে।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: এতটুকু আশা, নীল আকাশের নিচে, জীবন থেকে নেয়া, নাচের পুতুল, পিচঢালা পথ, আবির্ভাব, দ্বীপ নেভে নাই, টাকা আনা পাই, রংবাজ, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, ছুটির ঘণ্টা, চন্দ্রনাথ, শুভদা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত।
প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র: অনন্ত প্রেম (১৯৭৭), নায়িকা চরিত্রে ছিলেন ববিতা।
সর্বশেষ পরিচালিত চরিত্র: আয়না কাহিনি (২০১৪)।
সর্বশেষ চলচ্চিত্র: কার্তুজ (২০১৪)।
ছবির সংখ্যা: বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক।
পুরস্কার: পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা), মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৪ (আজীবন সম্মাননা), বাচচাস পুরস্কার ২০০৯ (আজীবন সম্মাননা)।
এমবি





