কলকাতার চলচ্চিত্র এবং গানের অনেক বড় একটা বাজার তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। টালিগঞ্জে কোন ছবি মুক্তি পাওয়ার পর সমানতালে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। গানের ক্ষেত্রেও নচিকেতা, অঞ্জন দত্তরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। এ নিয়ে নানা বিতর্কও রয়েছে। কেউ বলেন সীমান্তের বেড়া দিয়ে সংস্কৃতিকে অবরুদ্ধ করে রাখা যায় না। দুই বাংলার সংস্কৃতি যখন এক তখন তো এটাই স্বাভাবিক।
আর মাত্র কয়েক দিন বাকী, এরপরই ঈদুল ফিতর। দেশের সবগুলো টিভি চ্যানেল ঈদকে উপলক্ষে করে সাজিয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এর বড় অংশ জুড়ে প্রতি রাতেই থাকছে স্টুডিও কনসার্ট। এবারেও দেশীয় শিল্পীদের পাশাপাশি থাকবে কলকাতার শিল্পীরা। একাধিক চ্যানেলে কলকাতার প্রখ্যাত সব সংগীত শিল্পীরা গাইবেন। চাঁদ রাত থেকেই দেখা যাবে এ আয়োজন।
এ নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে দেশের সংগীত অঙ্গনে। দেশের কয়েকজন তরুণ সংগীত শিল্পী বলেন- এমনিতেই সারা বছর আমাদের দর্শকরা স্টার জলসা, জি-বাংলা নিয়ে মেতে থাকে। ঈদ এলে দেশী চ্যানেলেগুলো অনেকেই দেখেন। ঈদ অনুষ্ঠানে কলকাতার শিল্পীদের এনে দেশীয় শিল্পীদেরে জায়গাটাকে সংকুচিত করা হচ্ছে।
আবার কেউ কেউ বলছেন টিভি চ্যানেলগুলো বাণিজ্যিক চাহিদার জায়গা থেকেই এটা করছে। এখন প্রতিযোগিতা করে কলকাতার শিল্পীদের আনা হচ্ছে। এটা আমাদের সংগীতাঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে অঞ্চন দত্ত, নচিকেতাদের গানে ঈদ উদযাপনটা ভালোই হবে বলে মনে করেন কিছু দর্শক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থি শামীম বলেন- ‘প্রতিযোগিতায় থাকতে হলে ভালো গান করতে হবে। অঞ্জন দত্ত, নচিকেতাদের মতো আমাদের দেশে কজন শিল্পীই আছেন। স্টুডিও কনসার্টে দেশীয় এমন অনেক শিল্পীকে দেখি যাদের মৌলিক ১০টা গানও নাই। অন্যের গান দিয়ে তো স্টুডিও কনসার্ট হয় না। চ্যানেল বদলালে একই গান ভিন্ন ভিন্ন শিল্পী গাইছেন। এভাবে দর্শক ধরে রাখা যায় না।
এবারের ঈদ উপলক্ষে দেশের একাধিক টিভি চ্যানেলে দেখা যাবে অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা, মিতালী মুখার্জী হৈমন্তী শুক্লা, রাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, জোজো, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপংকর মোনালী ঠাকুরদের।
ঢাকা, ২৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





