সম্প্রতি ভেঙ্গে গিয়েছে স্বাগতাদের গানের দল মহাকাল। মহাকালের ভাঙ্গন নিয়ে  স্বাগতা বলেন, পেছনে কিছু ইন্টারনাল ব্যাপার ছিলো। আমরা ইম্যাচিউর অবস্থায় ব্যান্ড গঠন করেছিলাম।দশ বছর ধরে ব্যান্ডটা টিকে ছিলো। আর সময়ের সাথে সাথে আমরাও যেমন বড় হয়েছি, তেমনি বদলে গেছে আমাদের টেস্ট, রুচিবোধ, মতাদর্শ সবকিছু। ফলে এটা ভেঙ্গে গেছে।
অনেকদিন আগে শুনেছিলাম ফিল্ম বানাবেন? তার কি অবস্থা? জবাবে তিনি বলেন, না, আসলে আমি তো ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে পড়ছি।ওখানে বাধ্যতামুলকভাবে একটা ফিল্ম জমা দিতে হয়। এজন্যই ফিল্ম বানাতে চাচ্ছি। কিন্তু আমি মেন্টালি প্রিপায়ারড না। সবাই জমা দিলেও আমি এখনো দিতে পারি নাই। আসলে মানুষ কর্তব্য পালন করে আগে আর আমি আমার ইচ্ছেটা পূরণ করি আগে।
শত্রু শত্রু খেলা, অশান্তমনসহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তো সিনেমার কি খবর? স্বাগতা জানালেন, দেখেন নায়কের পাশে বসে কান্নাকাটি করা, ফাইট দেখা, সেজেগেুজে বসে থাকা নায়িকা হয়ে লাভ নেই। সেখানে আসলে বসে থাকা ছাড়া আমার করার কিছু থাকে না। আমি নায়িকা বেইজড সিনেমা চাই যেখানে অ্যাক্টিং করার মতো জায়গা থাকবে। এমন সিনেমা পেলেই আবারো সিনেমায় অভিনয় করবো।
সিদ্ধেশ্বরীতে বেড়ে ওঠা স্বাগতার। আর তাই ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরীর গুনগানই গাইলেন তিনি। বললেন, সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় থাকা ঐ সময়ে খুব মজার ছিলো। কেননা ঢাকার কালচারটাই তখন বেইলিরোড সিদ্ধেশ্বরী বেইজড ছিলো। ফলে এখানে থাকার মজাটাই ছিলো আলাদা।
আপনি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করলেও প্রচণ্ড মাত্রায় হিট হননি। এর কারণ কি? জবাবে হাসলেন স্বাগতা। বললেন, কারন এটা আমার বাসা, আমার বাসায় আমার হিট হওয়ার কিছু নেই। আমি কখনো নিজেকে হাইট করতে চাই না।
প্রায় সব তারকার নামেই গুঞ্জন থাকে, কিন্তু আপনার নামে তেমন কোনো গুঞ্জন শোনা যায় নি। কারণ কি? প্রশ্ন শুনে হাসলেন স্বাগতা। বললেন, এই যে হাইট নাই যে। কোনো কিছুর ধার ধারি না যে, তাই। আর আমি তো নিজেকে তারকা ভাবি না। আমি মনে করি এটা আমার জব। আমি যে কাজটা করি এটা সবাই পারে না। আর তাই আমি তারকা।তারকার যে অহং তা আমার মধ্যে কাজ করে না। কারণ আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক বড় বড় তারকা দেখে এসেছি।
বাবাকেই নিজের আইডল মনে করেন স্বাগতা। তিনি বলেন, আমার বাবাই আমার আইডল। কারণ আমার মতে আমার বাবা অনেক মহৎ একজন মানুষ।
আবদুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরেই স্বাগতার অভিনয় জগতে প্রবেশ। তাঁর অবদানের কথা স্বীকার করে স্বাগতা বলেন, আমার জীবনে উনার অবদান অনেক বেশি। তাকে অস্বীকার করলে আমি শেষ। তার জন্যই আজ আমি অভিনেত্রী স্বাগতা।
সবসময় ফুর্তিতে ডুবে থাকা স্বাগতার কাছে এবার জানতে চাই, আপনাকে তো সবসময় ফুর্তিতে থাকতে দেখা যায়। এত ফুয়েল কোথা থেকে পান। স্বাগতার মুখটা মুহূর্তেই আরো হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলেন, হুম।আমি সবসময় ফুর্তিতে থাকি। জন্মগতভাবেই আমি ফুর্তিবাজ। আমার নিজের বলতে এনার্জি আর এই ফুর্তি দুটি জিনিসই প্রধান। আমার মনে হয় এনার্জিবলে আমি দুনিয়ার সবাইকে পাস করে এগিয়ে যাবো। অলরেডি পাস করছিও।
স্বাগতার কথার সূত্র ধরে মনে মনে কামনা করি স্বাগতা এগিয়ে যান সবাইকে অতিক্রম করে।
[b]ঢাকা, ২৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]