নিষিদ্ধ করা হলো ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা নিয়ে তৈরি পাঞ্জাবি ছবি ‘কউম দে হিরে’৷ আগামী শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ওই ছবিটি। কিন্তু, তার আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ছবির কিছু অংশের ওপর ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দাবি করেছে।

জানা গেছে, ছবির কিছু অংশে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কোনো অংশ থাকলে তা পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কউম দে হিরে বা ডায়মন্ডস অব দ্য কমিউনিটি নামের ওই ছবিটিতে দেখানো হবে অক্টোবর ১৯৮৪ সালে কীভাবে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর পাঞ্জাবি দেহরক্ষীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিলেন। অপারেশন ব্লুস্টারের বদলা নিতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, সেটাও দেখানো হয়েছে।

এই সম্পূর্ণ ঘটনা নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এমনটাই মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধীর দুই দেহরক্ষী বা দুই হত্যাকারী বিয়ন্ত সিং এবং সতয়ন্ত সিং। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর কিছুদিন পরই প্রথমে বিয়ন্ত সিং পুলিশের গুলিতে মারা যায়। তারও কিছু দিন পর সতয়ন্ত সিংয়ের মৃত্যুদণ্ড হয়। এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি সবার জানা।

তবে, এবার আগামী ছবিটির পরিচালক রবিন্দর রবি নাকি ওই দুই হত্যাকারীকে ‘হিরো’ হিসাবে প্রতিপন্ন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন যুব কংগ্রেস সদস্য বিক্রমজিত্‍ চৌধুরি। এ বিষয়ে তিনি একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির কাছে। দিল্লির কংগ্রেস দরবারে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তার ফল হিসাবেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই নির্দেশ।

তবে, ছবির পরিচালক এই বিষয়টিকে একেবারেই অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সত্যি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর এই ছবি। এতে কোনো হিরো অথবা ভিলেন নেই।

প্রযোজক রবিন্দর সিং বলেছেন, ‘আমি হত্যাকারীদের কোর্টের সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি, এমনকি তদন্তের রিপোর্টটিও ভালো করে পর্যালোচনা করেছি। বিয়ন্ত সিং এবং সতয়ন্ত সিংয়ের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাটিয়েছি। তার পরই এই ছবির কাজ করতে নেমেছি।’

এছাড়া তিনি অপর একটি প্রশ্ন করেছেন সকলের উদ্দেশে, ‘রাজনৈতিক হত্যা নিয়ে বর্তমানে প্রচুর ছবি তৈরি হচ্ছে। তবে কেন বাদ পড়বে ‘ইন্দিরা হত্যা’র মতো একটি বিষয়?’

ঢাকা, ২২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই