রাত প্রায় ১০টা। উত্তরা ক্লাবে প্রবেশ করেই চোখে পড়লো রাশি রাশি ফুলের তোড়ায় ভরে আছে রিসিপসন। হল ভর্তি মানুষ হাসিমুখে বসে আছেন। আর স্টেজে কথা বলে চলেছেন ড্যাশিং হিরো সোহেল রানার ছেলে মাসরুর পারভেজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেল আত্মীয় স্বজনদের একে একে স্টেজে ডেকে বিপদে ফেলছেন তিনি।

তার কণ্ঠ থেকে ভেসে এলো— এখন আসছেন ছোট চাচ্চু। আসন ত্যাগ করে স্টেজে হাজির হলেন সোহেল রানার ছোটভাই চিত্রনায়ক রুবেল। এরপর একে একে অনুভূতি ব্যক্ত করে গেলেন মাসরুর পারভেজ এর চাচ্চু, মামা, খালা অর্থাৎ সোহেল রানার কাছের আত্মীয়রা।

সবার কথার একই সুর সুখী দম্পতির জন্য শুভকামনা আর ভালোবাসা।

শুধু পরিবারের মানুষজনই নন আয়োজনে হাজির হয়েছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী, মৌসুমী, শাবনুর, শিমলা, ওমর সানিসহ চলচ্চিত্র জগতের নবীন-প্রবীণ অনেকেই। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমান, আওলাদ হোসেনসহ নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকরাও ছিলেন সোহেল রানার ২৫তম বিয়ে বার্ষিকীর অতিথি।

ছেলের উপস্থাপনা শেষে মাইক্রফোন আসে সোহেল রানার হাতে। নায়িকা কবরী, মৌসুমী ও তার রাজনৈতিক সহকর্মী ববি হাজ্জাজসহ অনেককেই স্টেজে হাজির করলেন তিনি। কবরী স্মরণ করলেন সেই মাসুদ রানা সিনেমার কথা।

কবরী বলেন, ‘নায়ক হিসেবে অনেকের স্বপ্নের মানুষ সোহেল রানা। তার সঙ্গে চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করি ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রে। মনের রঙে রাঙাবো গানটি অনেক জনপ্রিয় হয়েছিলো। এরপরে আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রে তার সঙ্গে অভিনয় করেছি। তার হাঙর নদী গ্রেনেড চলচ্চিত্রটিও একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র। আজ এই নায়কের ২৫তম বিয়ে বার্ষিকী। আমি আগে ধন্যবাদ দিতে চাই তার স্ত্রীকে তিনি এতদিন ধরে একজন নায়কের ঘর সামলে এসেছেন এটা অনেক বড় ব্যাপার। তার সুখী জীবন কামনা করি।’

মৌসুমীও কবরীর সুর ধরে বললেন, ‘ভাবি যেভাবে একজন নায়কের ঘর সামলেছেন তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সর্বোপরি আমি বলবো আমিও তার মতো একজন হতে চাই।’

সাংবাদিক আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আজ আমারও ২৫ বছর হলো। তাদের বিয়ের দিনে সোনার গাঁ হোটেলে আমি উপস্থিত ছিলাম। ২৫ বছর পরে তাদের বিয়ে বার্ষিকীতে উপস্থিত হয়েছি। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। আরও সুখ সাচ্ছন্দে ভরে উঠুক তাদের দাম্পত্য জীবন।’

অতিথিদের অনুভূতি প্রকাশের এক ফাঁকে সোহেল রানা ডাকলেন স্ত্রী ডা. জিনাত বেগমকে। এবার তার কথা বলার পালা।

জিনাত বলেন, ‘আমি একটি কথাই বলবো মানুষের পেশা বড় নয়। সবকিছুর উপরে মানুষকে একজন ভালো মানুষ হওয়া উচিৎ। নায়ক রাজনীতিবিদ সবকিছুর উপরে সোহেল একজন ভালো মানুষ।’

সোহেল রানা বলেন, ‘কখন কীভাবে ২৫ বছর পার হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। সেটা আমার বেগম জিনাতের কারণেই। তার সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে নিয়েছে অনেক দূর। আর সঙ্গে আছে আমাদের একমাত্র ছেলে মাসরুর। আমাদের আগামীর দিনগুলোর জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

সাবার বক্তব্যের শেষে কাটা হয় বিয়ে বার্ষিকীর কেক।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা এগারোজন’ প্রযোজনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন সোহেল রানা। মাসুদ রানা অবলম্বনে যখন ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে যান তখন প্রয়াত সুমিতা দেবী, এস এম শফি, মোস্তাফিজ আহমদ জামান চৌধুরীর পরামর্শে তিনি নিজেই নায়ক হিসেবে অভিনয় শুরু করেন ১৯৭৪ সালে। এটি তিনি নিজেই নির্মাণ করেছিলেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় তিন শ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা। পাশাপাশি ত্রিশটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও বিশটি চলচ্চিত্র নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘রিটার্ন টিকেট’। ১৪ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে সোহেল রানা অভিনীত এসএ হক অলিক পরিচালিত ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ চলচ্চিত্রটি।

১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট ডা. জিনাত বেগমকে নিজের জীবনসঙ্গী করেন সোহেল রানা।

জেআই