বাংলাদেশের গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন। বাঙালি শ্রোতামাত্রই মুগ্ধ তার মোহনীয় সুরে। ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এইদিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন প্রতিভাময়ী এ শিল্পী। আজ এই শিল্পীর ৬০তম জন্মদিন।
সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তী সাবিনা ইয়াসমিন দেশাত্ববোধক গান গেয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। গেয়েছেন চলচ্চিত্রের গান। আপন মহিমায় দেশ এবং দেশের বাইরে তিনি প্রতিষ্ঠিত। বহির্বিশ্বে নিজের সঙ্গে দেশের নামও উজ্জ্বল করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভূবনে বিচরণ করে চলেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে।
সাবিনা ইয়াসমিন ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। আট বছর বয়সে রেডিও-তে ছোটদের আসর ‘খেলাঘরে’তিনি প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে টেলিভিশনে শিশুশিল্পী হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সাবিনা ইয়াসমীন ওস্তাদ পিসি গোমেজের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতে ১৩ বছর তালিম নেন।
তার বোন ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান এবং নীলুফার ইয়াসমিনও সঙ্গীত শিল্পী। সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীত শিল্পী কবির সুমন।
শিশু শিল্পী হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিন ‘নতুন সুর’চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন। ১৯৬৭ সালে চলচ্চিত্রে গায়িকা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। মরমী শিল্পী আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের উঠতি গায়কের সঙ্গে গান গেয়ে চলেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা ইয়াসমিন গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে খান আতাউর রহমানের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছেন।
ভারতীয় সুরকার আর ডি বর্মণের সুরে গান এবং সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমারের সঙ্গে ডুয়েট গান গেয়েছেন। সাধারণত চলচ্চিত্রের গানেই তিনি বেশি কণ্ঠ দিয়েছেন। কবির সুমনের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের ‘তেরো’নামের একটি ডুয়েট অ্যালবাম রয়েছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের উল্লেখযোগ্য গান হলো- সব ক’টা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাড়িয়া দে, সুন্দর সুবর্ণ, এ কী সোনার আলোয়, প্রেম যেন এক গোধুলিবেলার, যদি আমাকে জানতে সাধ হয়, এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে, জানি না কি ভেবে কাছে নিয়েছিলে, মন যদি ভেঙ্গে যায় যাক, জানি না কে তুমি, ভুলে গেছি সুর ওগো, অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, এ আঁধার কখনো যাবে না, সে যে কেন এলোনা, ও পাখী তোর যন্ত্রনা, ওরে ও দুষ্টু কোকিলা ইত্যাদি।
১ হাজার ৫০০-এরও বেশি ছায়াছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন ১২বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ছবিগুলো হলো- সাধারণ মেয়ে (১৯৭৫), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), সুন্দরী (১৯৭৯), কসাই (১৯৮০), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), প্রেমিক (১৯৮৫), রাজলক্ষী শ্রীকান্ত (১৯৮৭), দুই জীবন (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১), রাধাকৃষ্ণ (১৯৯২), দুই দুয়ারী (২০০০) ও দুই নয়নের আলো (২০০৬)।
১৯৮৪ সালে তিনি একুশে পদক অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে গানের জন্য ভারতের বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ থেকে সংগীতে 'ডক্টরেট' ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯১ সালে উত্তম কুমার পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে এইচএমভি ডাবল প্লাটিনাম পুরস্কার, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৯২ সালে অ্যাস্ট্রোলজি পুরস্কার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে পান বেস্ট সিঙ্গার পুরস্কার। এ ছাড়াও পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার, ভারতে ১৯৯২ সালে বিএফজেএ’র ‘সজনী গো সজনী’ছায়াছবিতে কণ্ঠদানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হন। সংগীতের ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবিনা ইয়াসমিনকে ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ‘উল্কা’চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ২০১০ সাল থেকে চ্যানেল আই আয়োজিত সেরা কণ্ঠে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





