ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে শাহরিয়ার ইসলাম শাওনের বিয়ের কাবিননামা এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

২০১৫ সালের ১৫ মে বাড্ডার একটি কাজী অফিসে বিয়ে হয় মাহি-শাওনের। বিয়ের দেনমোহর ধার্য করা হয় চার লাখ টাকা। ফাঁস হওয়া কাবিননামায় এসব তথ্য রয়েছে।

গত ২৫ মে অপু নামে সিলেটের এক বাসিন্দার সঙ্গে বিয়ের পিড়িতেঁ বসেন মাহি। কদিন ধরে ‘গুঞ্জন’ চলছে এটি হচ্ছে মাহির দ্বিতীয় বিয়ে। আর এ গুঞ্জনের মধ্যেই ফাঁস হয়েছে শাওনের সঙ্গে মাহির নিকাহনামা।

নিকাহনামার তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১৫ মে শাহরিয়ার ইসলাম শাওনকে বিয়ে করেছিলেন মাহি। বিয়ের দেনমোহর ছিলো চার লাখ টাকা।

Mahi.kabin

ফাঁস হওয়া ওই কাবিননামায় মাহির জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৭/১০/১৯৯৪ আর শাওনের ১৫/০২/১৯৯৪। বিয়েতে মাহির উকিল হিসেবে ছিলেন মোঃ হারুন অর রশিদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় থাকেন।

তবে সে বিয়ের খবর গোপন রেখে সিলেটে অপু নামের একজনকে বিয়ে করেন মাহি। এরপরই শাওনের সঙ্গে মাহির অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

এরই প্রেক্ষিতে রাজধানীর উত্তরা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহরিয়ার ইসলাম (শাওন) ও তার বন্ধুদের আসামি করে একটি মামলা করেন মাহি (নং-৩১/তাং- ২৮/০৫/২০১৬)।

mahi-3_1

এজাহারে বাদী শারমীন আক্তার নিপা (মাহি) উল্লেখ করেন, ‘আমার পূর্বপরিচিত (বন্ধু) শাহরিয়ার ইসলাম শাওন (২৩), পিতা- নজরুল ইসলাম, মাতা- শিউলি আক্তার, বাসা- ক/১৩, দক্ষিণ বাড্ডা, গুলশান, ঢাকা তার কাছে থাকা আমাদের কিছু অন্তরঙ্গ স্থিরচিত্র কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুকে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

mahi-1

এ বিষয়ে তার সাথে তার বন্ধু হাসান, আল আমিন, খাদেমুল এবং তার খালাতো ভাই রেজওয়ান জড়িত রয়েছে বলে আমার ধারণা।’

তিনি এজাহারে আরও লিখেন, ‘ছড়িয়ে দেয়া এসব ছবি আমার উল্লিখিত বন্ধু (শাওন) ছাড়া আর কারও কাছে ছিল না।

শাওন এবং তার বন্ধু-বান্ধব মিলে আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হরণ করে আমার বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার অনুমতি ব্যতিত গণমাধ্যম, অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহযোগিতায় প্রকাশ করেছে।’

মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ মামলায় রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে শাওনকে গ্রেফতার করে ডিবি। পরে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে শাওনকে।

শাওন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজে একই ক্লাসের শিক্ষার্থী ছিলেন শাওন ও মাহি।

শাওনের বাবার নাম নজরুল ইসলাম, তিনি গুলশানের একজন ব্যবসায়ী। পারিবারিকভাবে শাওনের জামিনের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। শাওন জামিন পেলে তার পরিবার মাহির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত মাহি বিভিন্ন সময় শাওনের সঙ্গে ফেসবুকে অনেক ছবি পোস্ট করেছেন। এ নিয়ে আগেও যখন গুঞ্জন তৈরি হয় তখন শাওনকে ‘শুধুই কাছের বন্ধু’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন মাহি।

এসএম/এবি সিদ্দিক