অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সের অধ্যাপক ড. কবির হাসান। তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মতের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ড. কবির হাসান বলেন, ‘প্রতিশোধের রাজনীতি নয়। এক অন্যায়ের পরিবর্তে আরেক অন্যায় প্রতিষ্ঠা করলে আমরা অতীত থেকে কিছুই শিখব না। আমাদের প্রয়োজন ন্যায়বিচার, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। আমাদের প্রয়োজন জবাবদিহি, কিন্তু দলীয় প্রতিশোধ নয়। আমাদের প্রয়োজন মতের বৈচিত্র্য, কিন্তু বিভাজন নয়।’
তিনি আরও বলেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যার ভিত্তি হবে জনগণের শক্তি। ব্যক্তি বা দলনির্ভরতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই একটি ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।
স্মরণসভায় নিউ অরলিন্স ও তুলেন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির অংশগ্রহণকারী, সাবেক সেনাসদস্য, কমিউনিটির প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্য, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং শিশু-কিশোররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) মীর সাইফুল ইসলাম, তুলেন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মুসাফিজ এবং ডেলগাডো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আমজাদ।
আয়োজনের অংশ হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় এবং শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা- সাহস, ঐক্য ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা- পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
এনএইচ