বিশ্বকাপ উপলক্ষে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন ভেন্যু, ফ্যান জোন, পার্ক, স্টেডিয়ামের আশপাশ এবং ব্যস্ত জনসমাগমস্থলে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা কুরআনের অনুবাদ, ইসলাম পরিচিতিমূলক ফ্লায়ার, লিফলেট ও বিভিন্ন ইসলামি বই বিনামূল্যে বিতরণ করছেন সংগঠনটি। একই সঙ্গে আগ্রহীদের সঙ্গে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শান্তির বার্তা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করছেন। মুলত ইসলাম যে শান্তির ধর্ম এখানে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই এটি বিশ্ববাসির কাছে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ।

মুনার নেতারা জানান, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়' এটি বিশ্বের নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের এক মিলনমেলা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তাদের ভাষ্য, অনেক মানুষের ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব রয়েছে। তাই সহজ ভাষায় লেখা বই, কুরআনের অনুবাদ ও তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেটের মাধ্যমে সেই আগ্রহের ইতিবাচক জবাব দেওয়া হচ্ছে।

সারা বিশ্বে বিনা বিচারে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনে মুসলমানদের উপর বিনা বিচারে মুসলিম হত্যা চলছে। অথজ প্রচার করা হচ্ছে ইসলাম সন্ত্রাসবাদ। এই মিডিয়া র আগ্রাসি ভুমিকার জন্য ইহুদি খ্রিস্টাসরা আজ নতুন করে ইসলামকে জানান চেস্টা করছে।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, বিভিন্ন দেশের সমর্থক ও পর্যটকরা আগ্রহভরে এসব প্রকাশনা গ্রহণ করছেন। কেউ কেউ ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন, আবার অনেকে ভবিষ্যতে স্থানীয় ইসলামিক সেন্টার পরিদর্শনের আগ্রহও প্রকাশ করছেন। মুনার সদস্যরা ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ইসলামের মানবিক, নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নিয়েছেন। তারা নির্ধারিত স্থানে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই কুরআনের ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং চাইনিজ ও অন্যান্য ভাষার অনুবাদ সংগ্রহ করছেন।

জানা গেছে মুনার সহযোগি সংগঠন আল কুরআন একাডেমি এবছর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে প্রায় ১ লাখ কুরআন বিনা মূল্যে বিতরণের টার্গেট নিয়েছে। পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যেও আলোচনা করা হচ্ছে।

মুনার দায়িত্বশীলরা বলেন, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও বোঝাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইসলামও মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের শিক্ষা দেয়। তাই এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইসলামের সার্বজনীন বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন ভেন্যুতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবীরা হাসিমুখে দর্শকদের হাতে কুরআন, লিফলেট ও ইসলামি বই তুলে দিচ্ছেন। অনেকেই তাদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মুনার নেতারা বলেন, ইসলামের দাওয়াত মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; বরং সুন্দর আচরণ, যুক্তি, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ইসলামের শিক্ষা। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই তাদের এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে এ ধরনের দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় আরও বিস্তৃত পরিসরে কুরআন ও ইসলামি সাহিত্য বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রহীদের জন্য পরিচিতিমূলক সেমিনার, উন্মুক্ত আলোচনা এবং ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বেরও আয়োজন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এমন পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক উপায়ে ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরা আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইসলাম সম্পর্কে কৌতূহলী মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ারও একটি কার্যকর উদ্যোগ।

বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই তাই উত্তর আমেরিকায় মুনার এই দাওয়াতি কার্যক্রম নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্রীড়া উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মানবতা, নৈতিকতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটির এই উদ্যোগ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে আল কুরআন একাডেমির চেয়ারম্যান এবং মুনার এক্সিকিউটিভ এসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর প্রফেসর ড,রুহুল আমিন বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ঘরে একটি করে কুরআন পৌঁছে দেওয়া লক্ষে কাজ করছি। প্রতিবছর আমরা প্রায় এক লাখ কুরআন ফ্রি বিতরণ করে থাকি। এবছর বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আমরা আরও একটি বাড়তি সুযোগ পেয়েছি। ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, একাজে আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে।

কুরআন মানুষকে আকর্ষণ করে এটি তার প্রমান। একজন ইহুদি খৃষ্টাব্দ আজ কুরআন পড়ছে। এটি কুরআনের মোজেজা।

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের জন্য নেয়ামত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চারটি ভাষায় ৫০ টির বেশি মনোরম সৌন্দর্যের লিফলেট তৈরি করছি। এতে ইসলামের পরিচিতি সহজে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের এ প্রচারনা চলবে ফাইনাল খেলা পর্যন্ত।

এনএইচ