দাবি-দাওয়া নিয়ে সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে যৌথ বিবৃতি ও প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব জানান, এফসিপিএস পার্ট-১ এবং এমডি/এমএস (ফেজ-১) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীকে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের বর্তমান ভাতা আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয় , বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বেসরকারী হাসপাতাল/ক্লিনিক/মেডিকেল কলেজে এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
এর আগে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন সারাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন ইন্টার্ন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অভিযোগ, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের মেধা, শ্রম ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।