বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) চিকিৎসাধীন জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, জন্মগত হৃদরোগীদের মাঝে অনুদানের যে কর্মসূচি চলছে, সেটি আরও বেগবান হবে বলে আশা করছি। শুধু হৃদরোগ নয়, অন্যান্য রোগের চিকিৎসা ব্যয়ও কমিয়ে আনার চিন্তা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জাতির জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক তৈরি করা। এখান থেকে গিয়ে অনেকে বড় বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। যদিও সেই প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও মানদণ্ড হওয়ার পর্যায়ে যায়নি, তবে তারা চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে, তাদের মূল উৎস হচ্ছে এনআইসিভিডি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, সংবাদের শিরোনাম হয় টাকার অভাবে কাজ হচ্ছে না। অথচ আমরা টাকা দিলেও পরে জানানো হয়, তারা তা খরচ করতে পারছেন না। এর অন্যতম কারণ হলো, এখন আর টাকা হাতে দেওয়া হয় না, চেক দেওয়া হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ব্যয় করা সম্ভব হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, দলমত-নির্বিশেষে আমাদের সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এ রকম পরিবেশ যেন সারা দেশে বিরাজ করে, সেই কামনা করছি। চিকিৎসার অভাবে এ দেশের কেউ যেন মারা না যায়, সরকার সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে যে ভালো কাজগুলো হচ্ছে, সেগুলো যেন চলমান থাকে, সেই প্রত্যাশা করছি।
অনুষ্ঠানে মোট ৪৫ জন জন্মগত হৃদরোগীকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। এর আগে আরও ২০০ জনকে একই কর্মসূচির আওতায় চেক বিতরণ করা হয়।
এনআইসিভিডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডা. একরামুল রেজা টিপু ও ডা. ফারহানা আহমেদ।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনআইসিভিডির ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. ওয়াসীম। হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসরিন খান।
বক্তব্য দেন শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, শিশু হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আতাউল হক এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. এ এফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, অধ্যাপক ডা. বজলুল গনি, এনআইসিভিডি ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু হেনা মোস্তফা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর এপিএস ডা. জাবেদ হোসেন, ডা. রাকিবুল হাসান রাকিব, অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. আইনুল হক, ডা. মেজবাহ উদ্দিন, ডা. সরোয়ার আহমেদ, ডা. মিজানসহ হাসপাতালের নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এমএম