ইবোলা প্রতিরোধে এক ধরনের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। ইবোলা থেকে বেঁচে যাওয়া লাইবেরিয়ার এক কিশোরের রক্ত থেকে এই টিকা তৈরি করা হয়। খুব শীঘ্রই লাইবেরিয়াসহ ইবোলা আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এই টিকা সহজলভ্য হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। খবর বিবিসি'র।

এই ধরনের টিকাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'সিরাম'। সিরাম হচ্ছে মূলত, কোন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নিজে নিজে সুস্থ হয়ে যান, তবে তার রক্ত থেকেই এই টিকা তৈরি হয়। কারণ, ওই ব্যক্তির রক্তে থাকে ওই রোগ প্রতিরোধী প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি। এই অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণু ধ্বংসে কাজ করে।

লাইবেরিয়ায় ইবোলা আক্রান্ত এক কিশোর জেমস কোলি। তার সহোদর বোনেরা ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু সে বেশ কিছুদিন ইবোলায় ভুগে অবশেষে বেঁচে গেছে। অর্থ্যাৎ এই কিশোরের রক্তে ইবোলার জীবাণু ধ্বংসকারী প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি রয়েছে। তাই এই কিশোরের রক্ত থেকেই তৈরি করা হবে 'সিরাম' বা ইবোলার টিকা। প্রথমে রক্ত থেকে লোহিত রক্ত কণিকাকে পৃথক করা হয় এবং অ্যান্টিবডিকে সংরক্ষণ করা হয়। আর এভাবেই তৈরি করা হয় ইবোলার 'সিরাম' বা টিকা।

এরপর এই কিশোরের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বিজ্ঞানীরা দাতাদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করবেন। তবে, রক্ত সংগ্রহ করার সময় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে; যেমন- এইডস, হেপাটাইটিস ইত্যাদি। এরপর দাতাদের রক্ত থেকেই তৈরি হবে ইবোলার সিরাম বা টিকা। আর তা সরবরাহ করা হবে ইবোলা আক্রান্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে।

ইবোলার সিরাম তৈরির জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও বা হু) একটি গাইডলাইন বেধে দিয়েছে। এই গাইডলাইন অনুযায়ীই সিরাম তৈরা করা হবে। তবে, এই টিকার সহজলভ্যতা এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ ইবোলার ভ্যাকসিন ও ঔষুধও আবিষ্কৃত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র ড. মারি পল কেইনি। উল্লেখ্য, ইবোলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪,৫০০ জনেরও বেশি। সূত্র: বিবিসি

এসএমএ