মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগী রয়েছেন। নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও পেয়েছেন অনেকে।
তবে একদিনে সাতজনের মৃত্যু এবং দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, বমি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথা, বারবার বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, একদিনে সাতজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৫৯৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য নতুন করে রোগটি প্রতিরোধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
এমএম





