সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যেই এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে এগিয়ে নেবে।
পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুমোদিত প্যাকেজের আওতায় সৌদি আরব সর্বোচ্চ ২০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) এবং এর ওয়ারহেড কিনতে পারবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, এই অস্ত্রব্যবস্থা কম খরচে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং কাছাকাছি এলাকায় ক্ষতি কমাতে কার্যকর।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের নাশুয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অস্ত্রচুক্তির মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের সক্ষমতা বাড়বে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, আঞ্চলিক মিত্র এবং ন্যাটোভুক্ত বাহিনীর সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও উন্নত হবে।
এমন সময়ে এই অনুমোদন দেওয়া হলো, যখন সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা শহরের একটি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এর আগে ইয়েমেন সরকার সানার বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা থেকে ফেরা হুথি প্রতিনিধিদল বহনকারী একটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
এ ঘটনার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে হুথিরা। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করার পর দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেই সৌদি আরবের জন্য নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হলো।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই অস্ত্র বিক্রির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এস