৩৬টি দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ২৫টি দেশের মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বিপরীতে, বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আগের চেয়ে অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে।
জরিপের মূল বিষয়সমূহ ও ভৌগোলিক সমীকরণ
চীনের পক্ষে হাওয়া: স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে জনমত ব্যাপকভাবে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। এছাড়া ইতালি, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের জনপ্রিয়তা রেকর্ড ছুঁয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক: জরিপ করা ৩৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ৬টি দেশে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা বেশি। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার কট্টর মিত্র হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরাইল।
আয় ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য: সাধারণত মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গেছে, আর ধনী দেশগুলোতে নেতিবাচক। তবে ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর—উচ্চ মাথাপিছু আয় সত্ত্বেও দেশটির মানুষ চীনের প্রতি ইতিবাচক। এশিয়ায় চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক পাকিস্তান (৯০%) এবং সবচেয়ে নেতিবাচক জাপান (১১%)।
শি জিনপিং বনাম ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্ব রাজনীতি পরিচালনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—কার ওপর মানুষের আস্থা বেশি? জরিপে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাসীর আস্থা দুজনের প্রতিই বেশ কম (৫০%-এর নিচে)। তবে ট্রাম্পের তুলনায় শি জিনপিং কিছুটা এগিয়ে আছেন।
গবেষকরা জানান, বিশ্বজুড়ে শি জিনপিংকে নিয়ে মানুষ খুব চরমপন্থী মতামত না দিলেও, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ তীব্র ইতিবাচক বা তীব্র নেতিবাচক (চরম) প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮% আস্থা দেখিয়েছে ফিলিপাইন, আর সর্বনিম্ন ৪% এসেছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে।
জনপ্রিয়তার হেরফেরের কারণ কী?
গবেষকদের মতে, দেশ দুটির পররাষ্ট্রনীতি এই জনপ্রিয়তার পার্থক্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
হস্তক্ষেপের নীতি: জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫% মানুষের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪৫%।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অস্থিরতা: জরিপ চলার সময়েই গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মার্কিন প্রচেষ্টা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের শাসনব্যবস্থা একনায়কতান্ত্রিক এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একজন কর্তৃত্ববাদী নেতা হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের নীতিকে অনেক দেশ বেশি ‘পূর্বানুমানযোগ্য’ বা স্থিতিশীল মনে করছে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নিজেদের ভাবমূর্তি বাড়াতে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টাও এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ
এমএম