দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ জনের বয়স ছিল ১৩ বছর বা তার কম।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, স্কুলে নিয়মিত পাঠদান চলার সময় হঠাৎ ছাদটি ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর আগে গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়াল ধসে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একই মাসে লাহোরের বাঘবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু প্রাণ হারায় এবং আহত হয় অন্তত পাঁচজন।

এ ছাড়া জুন মাসে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খান এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত হয়। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিল আরও ২০ জন।

একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

এনএইচ